আজ ঢাকায় আসছেন ত্রিবেদী

বাংলাদেশে হাইকমিশনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্তিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব’ মনে করছেন এ পদে নিয়োগ পাওয়া বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী। গতকাল বৃহস্পতিবার সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে তিনি এ কথা বলেন।

নতুন এ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য দীনেশ ত্রিবেদীর আজ শুক্রবার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কূটনীতিক এ কথা জানান।

দীনেশ ত্রিবেদী পিটিআইকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতে ১৪০ কোটি মানুষ ‘এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন’, যার জন্য তিনি কতৃজ্ঞ।

সাবেক এই মন্ত্রী ভারতের ১৪০ কোটির সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি ‘ভাইবোনকে’ যুক্ত করে বলেন, তিনি শুধু ১৪০ কোটি নয়, উভয় দেশের ১৬০ কোটি মানুষের শুভকামনা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী উপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকায় একাধিক মামলায় এরই মধ্যে আদালত তার মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এসেছে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট। এমন প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার ১৯৭২ সাল থেকে ৫৪ বছর ধরে ঢাকায় দেশটির মিশনে শীর্ষ পদটিতে পেশাদার কূটনীতিক নিয়োগ দেওয়ার চর্চায় ছেদ ঘটায়। গত এপ্রিলে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে। তিনি এ পদে এ পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় ৭৬ বছর বয়সী একজন রাজনীতিক। বিভিন্ন সময় ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগির বিষয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তি করার বিষয়টি তৎকালীন মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনায় এলে ত্রিবেদী এ চুক্তির বিরোধিতা করেন। তিনি পরে জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ভালো বাংলা জানেন।