এশিয়ার বিশ্বকাপ শুরু আজ

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় এক হাইভোল্টেজ মহারণ দিয়ে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ অভিযান। বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় শুরু হতে যাওয়া এ ম্যাচটি দুদলের জন্যই নকআউটের টিকিট পাওয়ার সমীকরণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘ ২০ বছরের আক্ষেপ ফুরোনোর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে  দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ সালের সেই সেমিফাইনালের সোনালি গৌরব ফিরিয়ে আনার জেদ সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই চড়ছে পারদ।

বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ টেনে এশিয়ার ফুটবল বললেই যে দেশটির নাম সবার আগে মাথায় আসে, সেটি হলো দক্ষিণ কোরিয়া। ২০০২ সালে ঘরের মাঠে প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করার অনন্য এক রূপকথা লিখেছিল তারা। এ ছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’রা। হার না মানা মানসিকতার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সবসময়ই সমীহ জাগানিয়া নাম হলেও এবার মাঝমাঠের প্রধান ভরসা হাওয়াং ইন-বিওমের গোড়ালির ইনজুরি এবং প্রস্তুতি পর্বের কিছু আশানুরূপ ফল না পাওয়া দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে দলটি আশা গুনছে তাদের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় সন হিউং-মিনকে নিয়ে, যিনি বর্তমানে খেলছেনও এই মার্কিন ডেরাতেই।

এদিকে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হিসেবে প্রথম দায়িত্ব পালন করেছিলেন হং মিয়ুং-বো। তবে সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার ব্যর্থতার স্বাদ পেতে হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরে সেই পুরনো ধুলোবালি ঝেড়ে নতুন ইতিহাস লিখতে চান তিনি। ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রবল আত্মবিশ্বাসের কথা  জানিয়ে কোচ হং বলেন, ‘প্রধান কোচ হিসেবে এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। দেশের দায়িত্ব পাওয়াটা সবসময়ই সম্মানের। ২০১৪ সালে ব্যর্থ হয়েছিলাম সত্যি, কিন্তু সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এবারের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

এবারের বিশ্বকাপে ভেন্যুগুলোর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অধিক উচ্চতার কারণে ফুটবলারদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন কোরিয়ান কোচ। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করার দাবি জানিয়ে হং বলেন, ‘শুরুর দিকে উচ্চতার কারণে সমস্যা হলেও আমার মনে হয় দলের সব খেলোয়াড় এখন এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে।’

অন্যদিকে বর্তমানের চেক প্রজাতন্ত্র অতীতে ‘চেকোসেøাভাকিয়া’ হিসেবে দুবারের রানার্সআপ হওয়া এক পরাশক্তি। ফুটবল ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গৌরবময় হলেও ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ ২০টি বছর ধরে বিশ্বফুটবলের এই মহাযজ্ঞ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল তারা। সেই দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে এবার তাদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে দীর্ঘ ২০ বছর পর বড় মঞ্চে ফেরার ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া চেক বাহিনী কেবল অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং যেকোনো দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত তারা।

এখন পর্যন্ত তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে দুটি দলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ এবং ড্র হয়েছে একটি। এর মধ্যে ২০০১ সালে নিজেদের দ্বিতীয় দেখায় ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় পেয়েছিল চেক বাহিনী।