সোনালদোর মধ্যে তারুণ্যের অনুভূতি

ফুটবল অঙ্গনে তার সবচেয়ে সাধারণ এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিত ডাকনাম হলো সনি। শুধু মাঠের খেলাই নয়, তার সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ আর ইতিবাচক মনোভাবের জন্য ‘সানশাইন’ শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে ভক্তরা ভালোবেসে তাকে সানশাইন বলেও ডাকেন। আর মাঠে যখনই তিনি তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং গোল করার দুর্দান্ত দক্ষতা দেখান, গ্যালারি কেঁপে ওঠে *‘সুপার সনি’ সেøাগানে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেই অধিনায়ক সন হিউং-মিন তার চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন আবার এক ‘তরুণের’ মতো অনুভূতি নিয়ে, এবং মেক্সিকান সমর্থকদের কাছ থেকে বাড়তি কিছু সমর্থন পাওয়ারও আশা করছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় আজ সকালে গুয়াদালাহারায় ‘গ্রুপ এ’-এর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে মাঠে নামবেন সন। তিনি বর্তমানে মেজর লিগ সকারে লস অ্যাঞ্জেলেসের হয়ে খেলছেন। পাশেই মেক্সিকোতে তাকে ‘সোনালদো’ বলে ডাকা হয়; কেউ কেউ বলেন এই নাম পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনুকরণে, আবার অন্যদের মতে এটি ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার রোনালদোর রেফারেন্সে দেওয়া।

বুধবার সন বলেন, ‘আমি এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে আছি এবং সেখানে প্রচুর মেক্সিকান বাস করেন। আমি ফুটবলের প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা অনুভব করতে পারি, এবং তারা আমাকে অনেক সমর্থন করেন। আমি তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ অবশ্য তিনি জানান যে ‘সোনালদো’ ডাকনামটি ধারণ করার মতো স্বাচ্ছন্দ্য এখনো তার আসেনি, অন্তত ‘এখনো নয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় ম্যাচটিও হবে গুয়াদালাহারায়। তবে সেই ম্যাচে সন স্থানীয় দর্শকদের সমর্থন পাবেন বলে মনে হয় না, কারণ তখন তাদের প্রতিপক্ষ থাকবে সহ-আয়োজক মেক্সিকো নিজেই। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি আবারও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে, এবার মনটেইরিতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ৩৩ বছর বয়সী সন লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের হয়ে একটি সফল ক্যারিয়ার পার করেছেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তার বিশ্বকাপে অভিষেক হয়। এরপর তিনি ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ২০২২ সালে কাতারেও খেলেছেন।

সন বলেন, ‘এটি প্রথম হোক বা চতুর্থ বিশ্বকাপ, আমি আবারও এক তরুণের মতো রোমাঞ্চ অনুভব করছি। এটি আমার স্বপ্নের মঞ্চ। বিশ্বকাপের মাঠে ফিরতে পেরে আমি আনন্দিত, খুব ছোটবেলা থেকেই আমি এই স্বপ্ন দেখে এসেছি।’

এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এমন প্রতিবেদনগুলো তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন,  ‘আমি কখনই বলিনি যে এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। আমি কেমন খেলছি এবং কেমন পারফর্ম করছি সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’