বিনামূল্যে স্নাতক পর্যন্ত নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঘোষিত বাজেটে শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে নতুন সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। অতীতের ঘোষিত বাজেটগুলোতে এসব কর্মপরিকল্পনা ছিল না।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন, যা জিডিপির ২ শতাংশের সমান। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগামী ৫ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশের সমান করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা, যেমন জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকার তৃতীয় ভাষা জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী ওই দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী, তাদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা প্রদান করবে।
তিনি জানান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তি মূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
প্রযুক্তি ও এআই-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে চাই। শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যাতে তারা আধুনিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে। মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার নিজ মেধা, পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি বিদ, কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ক্রীড়াবিদ কিংবা অন্য যেকোনো পেশায় সমান মর্যাদা ও সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।