২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার। এ জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা খাত প্রসঙ্গে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। ইতিমধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যেমন সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকল্পে আমাদের সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রাম ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’, যার কার্যক্রম সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।’
বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এক লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সব নাগরিককে জীবনচক্রভিত্তিক পদ্ধতিতে সুরক্ষার আওতায় আনা, যাতে দারিদ্র্য হ্রাস পায়, বৈষম্য কমে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। এ কাঠামোর মূল দর্শন হলো অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন।
এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এর আওতায় থাকা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ ৪০ হাজার, বীরউত্তম ৩০ হাজার, বীরবিক্রম ২৫ হাজার এবং বীরপ্রতীক ২৫ হাজার টাকা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে আহতদের যথাক্রমে ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অব্যাহত থাকবে।
বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা অব্যাহত রাখা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে বাড়ানো হবে এবং মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা করা হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতার সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করা হবে এবং স্তরভেদে মাসিক ভাতা এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা করা হবে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ দশমিক ৯৫ লাখ মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা দেওয়া হবে।
৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ ফ্রি এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়।
ক্যানসারসহ ৬টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বেসরকারি কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসর গ্রহণকালে মোট অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসাবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।