১৩ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদে ফিরলেন মরিনহো

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞের মধ্যে ফুটবল বিশ্বে নতুন এক ধামাকা দিয়ে সাবেক কোচ হোসে মরিনহোকে আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে আনল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম মেয়াদে ক্লাব ছাড়ার দীর্ঘ ১৩ বছর পর পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ডের কাঁধেই দলের দায়িত্ব সঁপে দিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। গত বৃহস্পতিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিয়ালের সাথে তিন বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মরিনহো। আগামী ১৩ জুলাই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লস ব্লাঙ্কোসদের ডাগআউটে দেখা যাবে তাকে।

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালের প্রথম মেয়াদে মরিনহোর কোচিং ক্যারিয়ার ছিল যেমন সফল, তেমনই বিতর্কিত। সে সময় ক্লাবটিকে একটি লা লিগা ও একটি কোপা দেল রে ট্রফি জেতালেও, খেলোয়াড় ও গণমাধ্যমের সাথে তার ক্রমাগত সংঘাত ড্রেসিংরুমে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। এবার তিনি এমন এক রিয়ালের দায়িত্ব নিচ্ছেন, যা মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মতো সুপারস্টাররা দলে থাকা সত্ত্বেও গত দুই বছর বড় কোনো ট্রফির মুখ দেখেনি রিয়াল। 

চলতি মৌসুমেই জাবি আলোনসো ও আলভারো আরবেলোয়ার মতো দুই কোচকে বরখাস্ত করেছে তারা। এর ওপর যোগ হয়েছে খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আরবেলোয়ার কৌশল নিয়ে ফুটবলারদের অসন্তোষ এবং সমর্থকদের দুয়ো ধ্বনি। সব মিলিয়ে ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তো প্রকাশ্যেই গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হয়েই মরিনহোকে ফেরানোর পথ সুগম করেন পেরেজ।

দুই দশক আগে পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে চেলসিতে যোগ দেওয়ার সময় নিজেকে ‘স্পেশাল ওয়ান’ দাবি করেছিলেন মরিনহো। এরপর ইন্টার মিলানকে ২০১০ সালে ইউরোপসেরা করার পথে পেপ গার্দিওলার অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনাকে হারিয়েছিলেন তিনি। মূলত গার্দিওলা ও লিওনেল মেসির সেই সোনালী বার্সাকে টেক্কা দিতেই পেরেজ প্রথমবার মরিনহোকে রিয়ালে এনেছিলেন। বার্সেলোনার সাথে মরিনহোর সেই চরম বৈরিতা ফুটবল ইতিহাসে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল। রেফারির সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে গার্দিওলাকে খোঁচা দেওয়া কিংবা বার্সার সহকারী কোচের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো উগ্র কাণ্ডও ঘটিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০১৩ সালে কোপা দেল রের ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হার এবং ইকার ক্যাসিয়াসের মতো তারকাদের সাথে দূরত্বের জেরে চুক্তি শেষের তিন বছর আগেই রিয়াল ছাড়েন মরিনহো।

বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সী মরিনহোর রেকর্ড কিছুটা ম্লান। ২০১৬-২০১৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কাটানোর পর থেকে তার ক্যারিয়ারের গ্রাফ কিছুটা নিচের দিকে। এরপর টটেনহ্যাম, রোমা, ফেনারবাচে এবং সর্বশেষ বেনফিকার মতো ক্লাবে কোচিং করিয়েছেন তিনি। ম্যানইউ ছাড়ার পর তার ঝুলিতে কেবল রোমার হয়ে ২০২২ সালের কনফারেন্স লিগ ট্রফিটিই জমা হয়েছে। তবে রিয়াল সভাপতি পেরেজ এখনো বিশ্বাস করেন, বর্তমানে লামিন ইয়ামাল-পেদ্রিদের ওপর ভর করে উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে রুখে দিতে মরিনহোর ক্ষুরধার অভিজ্ঞতা আর কঠোর ব্যক্তিত্বই এখন রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় রসদ।