চট্টগ্রামে জুমার নামাজ আদায় করলেন নাহিদ-নাসীরুদ্দীন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শুক্রবার (১২ জুন) চট্টগ্রামের ষোলশহর ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে তারা মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত সবার পক্ষ থেকে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়। ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন তারা।

পরে উপস্থিতদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে পেরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি জানাই অগণিত দরুদ ও সালাম।

তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা বানিয়ে জামিয়া সৈয়দ আহমদ শাহ চিরকোটি (রহ.) এবং জশনে জুলুসের প্রবর্তক হাফেজ কারী তৈয়ব শাহ (রহ.)-কে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আওলাদে রাসুল হুজুর কেবলা তাহের শাহ ও সাবের শাহ হুজুরের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জামেয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলায় ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল পীর, দরবেশ, ফকির ও আউলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে। তাঁদের ত্যাগ, আদর্শ ও আধ্যাত্মিক সাধনার ফলেই এ অঞ্চলে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামেয়া মাদ্রাসা বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি এই প্রতিষ্ঠান ও সুন্নীয়তকে রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, বর্তমানেও সে ধরনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়।

জামেয়ার ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা চাই, জামেয়া মাদ্রাসা তার নিজস্ব ঐতিহ্য, আদর্শ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে একটি স্বাধীন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতিকে পথনির্দেশনা দিক। সুন্নীয়তের আদর্শ, পীর-মুরশিদ, দরবেশ ও আউলিয়ায়ে কেরামের উত্তরাধিকার ধারণ করে এটি যেন জাতির জন্য জ্ঞানের, প্রজ্ঞার ও নৈতিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এটি যেন সমগ্র জাতির কল্যাণে ভূমিকা পালন করে।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।