শেষ দিনের নাটকীয়তায় ১৬ বছর পর লিগ শিরোপা মোহামেডানের

লিস্ট ‘এ’র মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল মোহামেডান। লিগের শেষ দিনে মাঠের লড়াই, ভাগ্যের ছোঁয়া আর নানামুখী সমীকরণের রোমাঞ্চকর নাটকীয়তা শেষে দীর্ঘ ১৬ বছরের ট্রফি খরা কাটাল মতিঝিল পাড়ার দলটি। ২০০৯-১০ মৌসুমের পর দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে এটিই সাদা-কালো শিবিরের প্রথম ট্রফি।

শেষ দিনে মোহামেডানের সামনে শিরোপার অংকটা ছিল বেশ কঠিন। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে কেবল নিজেদের জিতলেই হতো না, তাকিয়ে থাকতে হতো অন্য মাঠে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হারের দিকেও। সাভারের বিকেএসপিতে আজ যেন মোহামেডানের সব ভাগ্যলিপি এক সুতোয় মিলে যায়; পাশাপাশি মাঠে নিজেরা জয় পায়, অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংক নবাগত ঢাকা লেপার্ডসের কাছে হেরে যাওয়া শিরোপা নিশ্চিত হয় মোহামেডানের। 

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ইতিহাস গড়ে মোহামেডান। স্কোরবোর্ডে রেকর্ড ৪০৬ রানের পাহাড় দাঁড় করায় তারা। যদিও শুরুতেই ওপেনার নাঈম শেখকে হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল দল, তবে দ্বিতীয় উইকেটে দৃশ্যপট বদলে দেন পারভেজ হোসেন ইমন ও এনামুল হক বিজয়। এই দুই টপ অর্ডার ব্যাটার স্কোরবোর্ডে ২৪৮ রানের এক অনবদ্য ও বিধ্বংসী জুটি যোগ করেন, যেখানে দুজনেই উপহার দেন চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি।

বিজয় ১১৫ বলের মুখোমুখি হয়ে ১১টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে খেলেন ১৪১ রানের এক নান্দনিক ইনিংস। অন্যদিকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন ইমন; ১১৬ বলে ১০টি চার ও ১২টি বিশাল ছক্কায় ১৫০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৩৩ বলে ৬১ রানের ক্যামিও এবং শেষ দিকে আনিসুল ইসলামের ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ঝড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪০৬ রানের পুঁজি পায় মোহামেডান।

৪০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার নীতিতে খেলে আবাহনী। দলটির ওপেনার অনিক সরকার শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন। তবে জিসান আলম ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনরা আজ থিতু হতে পারেননি। ২৪.৪ ওভারে আবাহনী ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করার পর হঠাৎ বজ্রপাত ও প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর ম্যাচ মাঠে গড়ানো সম্ভব না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে (ডিএলএস মেথড) ৬৩ রানে জয়ী ঘোষিত হয় মোহামেডান। অন্য মাঠে প্রাইম ব্যাংকের হারে শিরোপা নিশ্চিত হয় মোহামেডানের।

পাশের মাঠে আগে ব্যাট করে প্রাইম ব্যাংক করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান। রান তাড়ায় মিঠুনদের ঢাকা লেপার্ডস  ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ফলে বৃষ্টি আইনে ৯ রানের জয় পায় ঢাকা লেপার্ডস।

এই ম্যাচ হারায় এবং মোহামেডান জয় পাওয়ায় শিরোপা জেতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সমান পয়েন্ট থাকলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয় দল হয়েছে প্রাইম ব্যাংক। রানার্সআপ হয়েছে আবাহনী লিমিটেড।