মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধা অন্বেষণের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’এর প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টায় গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ বিজ্ঞান মেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশের এসইডিপি-এর আওতাধীন ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মেলায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দল অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় খুদে বিজ্ঞানী ও তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন—যা উপস্থিত সুধীজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আজকের খুদে বিজ্ঞানীদের চমৎকার উদ্ভাবনী চিন্তা দেখে আমি অভিভূত। তরুণদের এই মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিই আগামীর উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার। সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতাকে সাধুবাদ জানান এবং তরুণদের মেধা বিকাশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকল্প মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রথম স্থান (চ্যাম্পিয়ন) অর্জন করে টেংগারচর রাজিয়া কাদের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইসমানিরচর উচ্চ বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।