ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর প্রিয় দলকে ঘিরে উৎসবের রঙ। মাঠের লড়াই শুরুর আগে থেকেই সেই উন্মাদনার ছোঁয়া লেগেছে চট্টগ্রামের বেকারি শিল্পে। নগরের বিভিন্ন কনফেকশনারিতে এখন তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপ থিমের বিশেষ কেক। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স কিংবা ইরানের পতাকার রঙে সাজানো এসব কেক ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নগরের খুলশি এলাকার একটি কনফেকশনারিতে গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন নানা দেশের জাতীয় পতাকা, ফুটবল, জার্সি ও বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে কেক তৈরিতে। কোথাও ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ, কোথাও আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, আবার কোথাও পর্তুগালের লাল-সবুজ রঙ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নিখুঁত কারুকাজে।
শুধু প্রদর্শনীর জন্য নয়, এসব কেকের অনেকগুলোই আগাম অর্ডার করা। কেউ পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আয়োজনের জন্য, কেউ আবার বন্ধুদের আড্ডা কিংবা জন্মদিনকে বিশ্বকাপের আমেজে রাঙাতে বেছে নিচ্ছেন ফুটবল থিমের কেক।
কনফেকশনারিটির কারিগররা জানান, বিশ্বকাপ এলেই বিশেষ ডিজাইনের কেকের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে এবার শুধু প্রিয় দলের পতাকা নয়, খেলোয়াড়দের ছবি, জার্সি নম্বর কিংবা ফুটবল মাঠের আদলেও কেক তৈরির অর্ডার আসছে। বিশেষ করে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, ইরান ও পর্তুগালের থিমের কেকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। বিভিন্ন দেশের পতাকার রঙ ও নকশা অনুসরণ করে কেক তৈরি করা হয়। অনেক ক্রেতা তাদের প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি বা জার্সি নম্বরও কেকে যুক্ত করতে চান। সেসব চাহিদাও আমরা পূরণের চেষ্টা করছি।’
শাখা ব্যবস্থাপক এনামুল বলেন, ‘ফুটবল কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে আমরা প্রতি আসরেই বিশেষ আয়োজন করি। এবারও অনেক ক্রেতা কেক কিনতে আসছেন, আবার অনেকে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইনের অর্ডার দিচ্ছেন। ফলে কাস্টমাইজড কেক তৈরিতে আমাদের বেশ ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে।’
চাহিদার শীর্ষে কোন দেশের কেক রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের কেকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ইরান, মরক্কো, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের কেকেরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অর্ডার আসছে।’
বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও রঙিন করতে বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাজিল থিমের কেক অর্ডার দিয়েছেন কফিল নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আসে। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা আর আড্ডার আনন্দ বাড়িয়ে দিতে আমরা বিশেষ কেক কাটার পরিকল্পনা করেছি। এমন আয়োজনের কথা শুনেই অর্ডার দিতে চলে এসেছি।’
বেকারিতে আসা আরও কয়েকজন ক্রেতা জানান, বিশ্বকাপ এখন আর শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রিয় দলের খেলা দেখার সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে থিমভিত্তিক কেক কাটার মধ্যেও পাওয়া যায় বাড়তি আনন্দ। তাই এমন কেকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
অন্যদিকে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদেরও। একজন কারিগর জানান, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের ডিজাইন তৈরির কাজ করতে হচ্ছে। কেকের স্বাদ ও মান ঠিক রেখে কিভাবে আকর্ষণীয় নকশা ফুটিয়ে তোলা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শিশু ও তরুণদের মধ্যে এসব কেকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’
বেকারি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন শুধু দর্শকদের বিনোদনই দেয় না, স্থানীয় ব্যবসায়ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে উৎসবভিত্তিক পণ্য বাজারজাত করে যেমন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায়, তেমনি ব্যবসায়ও আসে নতুন গতি। তাদের আশা, বিশ্বকাপ চলাকালে বিশেষ ডিজাইনের কেক বিক্রি সাধারণ সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।