ড. ফাহমিদা বললেন

কার্ডের জন্য স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা জরুরি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য বিপুল বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাজেটপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ১৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে একটা বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বরাবরই দেখা যায়, যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তারা অনেক সময় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে না। আবার যাদের ততটা প্রয়োজন নেই, তারাও তালিকায় থেকে যায়। এটা সমাধানের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অটোমেটেড ডেটাবেজ এবং সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

সিপিডি মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আয় এবং সম্পদের অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনর্বণ্টনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সিপিডির তথ্যমতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মোট বরাদ্দের ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং প্রস্তাবিত বাজেটের ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ সুবিধাভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক সুবিধাভোগী মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলায় ৭০ হাজার ৭৫৯ সুবিধাভোগীকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক কার্ডের জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কার্ডধারী কৃষক বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।