বাজেট ঘোষণায় বাজারে দ্রব্যমূল্যে প্রভাব নেই

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা মূল্যহ্রাসের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটির দাম তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে বাজেটের অতিরিক্ত চাপ না থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরছে না।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এই বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়াসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সে হিসেবে এসব নিত্যপণ্যের দাম কমতে পারে। তবে কাঁচাবাজারে এখনো পড়েনি বাজেটের প্রভাব। বরং অন্য সময়ের মতো উচ্চমূল্যেই বিক্রি সব পণ্য।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের মধ্যে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক লিটার ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকা এবং দুই লিটারের বোতল ৩৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে গরুর মাংস কেজি ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারে বাজেটের কোনো প্রভাব পড়েছে কি না জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিকেন হাউজের বিক্রেতা মো. সুলতান বলেন, বাজেটের প্রভাব এখনো পড়েনি। হয়তো প্রভাব পড়তে পারে।

আনোয়ার ডিমের আড়তের বিক্রেতা বলেন, বাজেটের কোনো কিছু এখনো আসেনি বাজারে। কিন্তু অন্য জিনিসের দাম যখন বাড়বে তখন অটো ডিমের দাম বেড়ে যাবে। দাম না বাড়লেই ভালো। আমাদের বেচাকিনি ভালো হয়, আবার চালানও কম লাগে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজেটের পর হঠাৎ কোনো পণ্যের দাম না বাড়লেও বর্তমান মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তারা বলেন, ‘আমরা আসলে বাজেট বলতে কিছু বুঝি না, নিজের আয় বুঝে ব্যয় করছি। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে চলতে কষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক।’

যাত্রবাড়ী কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. কামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার বলছে বাজেটের কারণে বাজারে চাপ পড়েনি। কিন্তু আমাদের জন্য তো বাজার আগেই চাপের মধ্যে ছিল। কাঁচা মরিচ, টমেটো কিংবা রসুনের মতো পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি। মাসের খরচ মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

রেহানা বেগম নামের একজন বলেন, ‘সবজির কিছু আইটেমের দাম কম থাকলেও রান্নার প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।  বিশেষ করে ডিম, ডাল আর তেলের দাম কমলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই বাজেট ঘোষণার পর বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়নি। তবে মৌসুমি চাহিদা, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কিছু পণ্যের দামে ওঠানামা হচ্ছে।

দামের পরিবর্তন হয়নি মুদি দোকানের পণ্যেও। প্রতি কেজি প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মান ভেদে ১৬০, ছোট মসুর ডাল ১৫০, মোটা মসুর ডাল ৯০, বড় মুগ ডাল ১৪০, ছোট মুগ ডাল ১৭০, খেসারি ডাল ১০০, বুটের ডাল ১১০, ছোলা ৮০-৯৫, মাষকলাইয়ের ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউ সনিয়া জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা নয়ন মাঝি বলেন, ‘এখনো বাজেট বাজারে আসেনি। শুনেছি কিছু মসলার দাম নাকি কমেছে। এখন নতুন মাল না আসা পর্যন্ত বুঝতে পারছি না কতটুকু কমেছে। এখন দেখা যাক কতটা দাম কমে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত