রোনালদো আইপ্যাড, মোবাইল ও পারফিউম গিফট করতেন সতীর্থদের

পর্তুগাল দলকে নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন তাঁর অধরা স্বপ্ন—বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মিশনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এক অন্য রোনালদোকে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে হাজির করলেন তাঁর সাবেক সতীর্থ আলভারো মোরাতা। রিয়াল মাদ্রিদে সিআরসেভেনের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি পর্তুগিজ মহাতারকার উদারতা এবং বড় মনের পরিধি ছিল অবিশ্বাস্য।

সম্প্রতি ‘এল কামিনো দে মারিও’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোর এমন সব অজানা দিক উন্মোচন করেন মোরাতা, যা শুনে যে কারোরই চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য।

রিয়াল মাদ্রিদের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আলভারো মোরাতা বলেন, আমার মনে আছে যখন আমি খুব তরুণ ছিলাম এবং আমরা প্রাক-মৌসুম ট্যুরে যেতাম, ক্রিশ্চিয়ানো আমার কী প্রয়োজন তা জানতে চাইতেন কিংবা আমরা একসাথে শপিংয়ে যেতাম। তিনি আমাদের আইপ্যাড, মোবাইল ফোন, দামী পারফিউম উপহার দিতেন... এটা ছিল সত্যিই চমৎকার ও অবিশ্বাস্য।"

মোরাতা স্বীকার করেন যে, রোনালদোর মতো একজন অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কঠোর ফুটবলারের সাথে মানিয়ে নেওয়া শুরুর দিকে কিছুটা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, "প্রথম দিকে আমি খুব ছোট ছিলাম এবং তাঁর স্তরের একজন খেলোয়াড়ের যে আকাশচুম্বী চাহিদা থাকে, তাতে অভ্যস্ত ছিলাম না। তবে আমার সাথে তিনি সবসময় ব্যতিক্রমী রকমের ভালো ব্যবহার করেছেন।"

বাইরে থেকে রোনালদোকে যেমনই দেখাক না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত মার্জিত এবং বিভিন্ন বিষয়ে দারুণ জ্ঞান রাখেন বলে জানান মোরাতা।

সতীর্থের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমরা একসাথে অনেক সময় কাটিয়েছি, অনেক বিষয়ে কথা বলেছি। ক্রিশ্চিয়ানোর ব্যাপারে আমি যা বলব তা হলো—বাইরে থেকে আপনারা যা দেখেন তা বাদ দিন, যখন আপনি তাঁর সাথে ডিনারে বসবেন, আপনি চমকে উঠবেন। তিনি সব কিছু বোঝেন, প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে তিনি ভীষণ সংস্কৃতিমনা ও শিক্ষিত, যা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।"

রোনালদোর এই অতিমানবীয় ফিটনেস ও অবিশ্বাস্য লাইফস্টাইল নিয়ে মোরাতা বলেন, "এমন কিছু বিষয় আছে যা আপনাকে বাকরুদ্ধ করে দেবে। ধরুন আমরা কোনো সফর শেষ করে ভোর পাঁচটায় ফিরলাম, যখন আমাদের সবার একমাত্র ইচ্ছা থাকে দ্রুত বাড়ি গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া; ঠিক সেই মুহূর্তে এই লোকটা সিট-আপ দেওয়া শুরু করত, সাইক্লিং করত এবং কোল্ড শাওয়ার (ঠান্ডা পানির স্নান) নিত! যে মানুষটা এভাবে বেঁচে থাকে এবং জীবনকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে—আমি শুধু এটুকু বলব যে, সে কেবল আমার দেখা সেরা সতীর্থই নয়, বরং সর্বকালের সর্বসেরা।"

দীর্ঘ ২৪ বছরের শিরোপার খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল যখন আগামীকাল মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে, ঠিক তখনই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোকে নিয়ে মোরাতার এই মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।