বাসে ছাত্রীকে হেনস্তা, জাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাম্পাস থেকে বঙ্গবাজারগামী বাসে এক ছাত্রীকে গোপনে ছবি তোলা এবং প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (১৪ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারগামী বাসে এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বাসটি পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও অধ্যাপক শামীমা নাসরিন জলি তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনেন। পরবর্তীতে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বহিষ্কারকালীন সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হল কিংবা ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

অভিযুক্ত মো. হাসানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম আবর্তনের (শিক্ষাবর্ষ ২০২০-২১) শিক্ষার্থী। তাঁর রোল নম্বর ৬৯২ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২০২১১১৫৩১৯৭। তিনি নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫১তম আবর্তনের ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসে যাত্রাকালে হাসানুর রহমান ওই ছাত্রীর অজান্তে মোবাইল ফোনে একাধিক ছবি তোলেন। বিষয়টি বাসে উপস্থিত এক শিক্ষার্থীর নজরে এলে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রমাণ হিসেবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে রাখেন।

এ সময় অভিযুক্ত ছবি তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ছাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে ওই ছাত্রী বাসের ভেতরে পড়ে গিয়ে আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ফোনটি নিয়ে বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে এনে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাসানুর রহমান একটি লিখিত জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা এবং মোবাইল ফোন ফেরত নেওয়ার সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। এ সময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নিরাপত্তা অফিসে এসে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।’