মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধে ব্রাজিলের ছন্নছাড়া ফুটবল নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা ও উদ্বেগ কাজ করছিল, যা ম্যাচ শেষে ফুটবলাররাও স্বীকার করেছেন।
শিষ্যদের এই মানসিক চাপ নিয়ে কার্লো আনচেলত্তি বলেন:"খেলোয়াড়রা মাঠের ভেতরে অস্থিরতার কথা বলেছে। আমাদের এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। এমন বড় মঞ্চে চাপ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে ধীরে ধীরে আমরা এই জায়গাটায় উন্নতি করব।"
দলের এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সে সমর্থকরা হতাশ হলেও নিজের দলের ওপর পূর্ণ আস্থা হারাচ্ছেন না এই মাস্টারমাইন্ড। আনচেলত্তির ভাষ্য,"দলের ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে। ফুটবলে সবকিছু সবসময় নিখুঁতভাবে হয় না। যখন কোনো কিছু ঠিকঠাক কাজ করে না, তখন জিনিসগুলো আরও উন্নত করার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা করা দরকার। এই পথচলা তো কেবল শুরু হলো।"
ম্যাচের শুরুর একাদশ নিয়ে সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচকে। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার রজার ইবানেজকে রাইট-ব্যাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বেশ সরাসরি জবাব দেন: "দল যখন ভালো খেলে না, তখন সমালোচনা মেনে নিতেই হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি শুরুর একাদশটি বেশ ভেবেচিন্তেই নামানো হয়েছিল, কারণ আমরা এটি নিয়েই অনুশীলন করেছিলাম। আমার মনে হয় না এই সমালোচনা কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে; বরং এই সমালোচনা পুরো দলের বিরুদ্ধে, যারা প্রথমার্ধে ভালো খেলতে পারেনি।"
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর তীব্র গরমের কারণে রেফারি যে পানি পানের বিরতি (হাইড্রেশন ব্রেক) দিয়েছিলেন, সেটাই ব্রাজিলের জন্য কৌশল বদলানোর সুযোগ করে দেয়। আনচেলত্তি জানান,"আমার মনে হয় এই বিরতিগুলো দারুণ একটি সময়। তখন খেলোয়াড়দের কাছে সমস্যাগুলো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কৌশলগত দিক থেকে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি মুহূর্ত।"
ম্যাচে কৌশল বা খেলোয়াড় বদল করতে আনচেলত্তি অনেক দেরি করেছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন: "আমি ৪৫ মিনিটে (দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে) দুটি পরিবর্তন করেছি এবং ৫৯ মিনিটে আরেকটি পরিবর্তন করেছি। আপনারা কি বুঝতে পারছেন? ৪৫ মিনিটে দুটি এবং ৫৯ মিনিটে একটি। আমার মনে হয় না আমি পরিবর্তন করতে কোনো সময় নষ্ট করেছি।"
তবে পুরো ম্যাচে বিষ্ময়করভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে তরুণ সেনসেশন এনড্রিককে। তাঁকে কেন খেলানো হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো একক খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি কোচ। আনচেলত্তি বলেন, 'আমি এখানে কোনো একক খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলতে আসিনি, আমি পুরো দল নিয়ে কথা বলছি। আমরা প্রথমার্ধে ভালো খেলিনি, দ্বিতীয়ার্ধে ভালো করেছি। আমরা কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম, তবে আমাদের আরও নিখুঁত হতে হবে।"
এই ড্র ব্রাজিলের মতো দলের ড্রেসিংরুমের মনোবল ভেঙে দেবে কি না—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আনচেলত্তি বলেন,"একেবারেই না। অনেক কারণেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি মনের মতো নাও হতে পারে। তবে আমাদের সামনে তাকাতে হবে, পরের ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের আসল লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হয়ে নকআউটে যাওয়া এবং সময়ের সাথে সাথে নিজেদের উন্নত করা।"
ম্যাচের ইতিবাচক দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন কোচ, "ছেলেরা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছে। সবচেয়ে ইতিবাচক ব্যাপার হলো, আমাদের ঠিক কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে তা এখন একদম পরিষ্কার। আগের দুটি প্রীতি ম্যাচে আমরা যা ভালো করেছিলাম, আজ প্রথমার্ধে তা মোটেও কাজ করেনি। আক্রমণভাগে আরও বেশি আগ্রাসী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হয়ে ওঠার জন্য আমাদের এই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।"
সবশেষে ফুটবল ভক্ত ও সমর্থকদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে আনচেলত্তি মনে করিয়ে দেন, "আমরা এই ফলাফলটি মেনে নিচ্ছি, এটি এতটাও খারাপ নয়। আমরা পরের ম্যাচের জন্য লড়াই করব। মনে রাখবেন, প্রথম ম্যাচেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যায় না।"