নোরার সঙ্গে একমঞ্চে পরিবেশনা

বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন সঞ্জয়

বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ বৈশ্বিক আসরে সঞ্জয়ের এই গৌরবময় অংশগ্রহণ দেশের জন্য এক বিশাল অর্জন। বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে বাংলাদেশের শিকড়কে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি প্রমাণ করলেন, মেধা ও অধ্যাবসায়ের জোরে যেকোনো ভৌগোলিক সীমানা জয় করা সম্ভব

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক ও ডিজে সঞ্জয় দেব। শুক্রবার (১৩ জুন) ২০২৬ বিশ্বকাপের কানাডা অংশের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেছেন তিনি। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচের আগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিজের পোশাক ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় ফুটিয়ে তোলেন এই তরুণ শিল্পী।

অনুষ্ঠানে সঞ্জয়ের মূল আকর্ষণ ছিল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম অফিশিয়াল গান ‘সির সির’। ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিম ও বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহির সঙ্গে এই গানে মঞ্চ মাতান তিনি। পারফরম্যান্সের সময় সঞ্জয় তার পোশাকের মাধ্যমে বারবার বাংলাদেশের প্রতীক ‘বাঘ’ (রয়েল বেঙ্গল টাইগার) বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন, যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকসহ বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশিদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

এর আগে গত ৮ জুন ফিফার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘সির সির’ গানটি প্রকাশের পর থেকেই তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া জাগায়। মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ কোটির বেশি ভিউ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গানটি। এমনকি উদ্বোধনী আসরের আরেক অফিশিয়াল গান শাকিরার ‘দাই দাই’-এর প্রথম দিনের ভিউকেও এটি ছাড়িয়ে যায়। প্রাণবন্ত ছন্দ, ফুটবলের উন্মাদনা ও নোরার নৃত্যশৈলী সমৃদ্ধ গানটি ইতিমধ্যে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করেছে।

বিশ্বকাপের এই মেগা মঞ্চে পারফর্ম করা প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন, ‘ফিফার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার ব্যাপারটা এখনো আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ছোটবেলায় নিজের ঘরে বসে যখন গান তৈরি করতাম, তখন এমন একটি বৈশ্বিক মঞ্চের স্বপ্ন দেখতাম। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল।’

কয়েক মাস পরই ৩৫ বছরে পা দিতে যাওয়া সঞ্জয়ের জন্ম মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। বাবা সন্তোষ দেব ও মা মিতা দেবের সঙ্গে প্রায় দুই যুগ আগে ১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠার পাশাপাশি মাত্র তিন বছর বয়স থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে ল্যাপটপে ‘রিজন’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংগীতের জগতে তার প্রাতিষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। বিভিন্ন সংস্কৃতির সংগীতকে এক সুতোয় গেঁথে ফিউশনধর্মী ধারা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে তিনি বেশ পরিচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংগীতশিল্পীদের সঙ্গেও নিয়মিত কাজ করেছেন সঞ্জয়। তার সংগীত প্রযোজনায় হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান ও জেফার রহমানের সঙ্গে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে হাবিব ও মুজার সঙ্গে ‘একলা দুনিয়া’, তাহসানের সঙ্গে ‘ভুলে যাব’ এবং জেফারের সঙ্গে ‘আড়ালে হারালে’ গানগুলো শ্রোতামহলে দারুণ প্রশংসিত হয়।

বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ বৈশ্বিক আসরে সঞ্জয়ের এই গৌরবময় অংশগ্রহণ দেশের জন্য এক বিশাল অর্জন। বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে বাংলাদেশের শিকড়কে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি প্রমাণ করলেন, মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে যেকোনো ভৌগোলিক সীমানা জয় করা সম্ভব। সঞ্জয়ের এই আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশের তরুণ ও আগামী প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।