ম্যাচের প্রথমার্ধে মরক্কোর একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেলেসাওরা। ২১ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের ওপর যে পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়েছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের পর্যালোচনা নিয়ে ভিনি বলেন:
"খেলার শুরুতেই গোল হজম করার পর আমাদের পুরো প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনাটাই বদলে গিয়েছিল। তবে আমি বিশ্বাস করি, গোল খাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম। আমাদের মার্কিংয়ের (প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা) উন্নতি হয়েছিল। রাফিনহা তাঁর দিক পরিবর্তন করার পর আমরা খেলাটা আরও একটু ছড়াতে পেরেছিলাম এবং বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলাম।"
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের খেলার ধরন পরিবর্তনের পেছনে কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশেষ নির্দেশনা ছিল বলে জানান ভিনি। কোচের সেই কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
"কোচ আমাদের বল আরও বেশি নিজেদের হোল্ড করতে (ধরে রাখতে) এবং মাঠে আরও বেশি মুভমেন্ট বা নড়াচড়া করতে বলেছিলেন। আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছিলাম। তবে আমরা এর চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারিনি কারণ মরক্কো খুব দুর্দান্ত ডিফেন্স (রক্ষণভাগ) করেছে। আর বিশ্বমঞ্চের প্রতিযোগিতা তো এমনই হবে। এখন থেকে আরও ভালো করার জন্য আমাদের এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের পুরো ম্যাচটা বিশ্লেষণ করতে হবে।"
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরে নিজের ওপর দায়িত্ব ও চাপ অনেক বেশি বলে মনে করেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন:
"গত বিশ্বকাপে আমি বেশ তরুণ ছিলাম। কিন্তু আজ আমার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি, সেই সাথে চাপও বেশি। তবে আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে সামনে যা কিছুই আসুক না কেন, তার সবকিছুর জন্যই আমি প্রস্তুত।"
আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কন্ডিশন ও তীব্র গরমও যে ব্রাজিলের স্বাভাবিক খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা ভিনির কথাতেই স্পষ্ট:
"এখানকার মাঠের পরিবেশ একদম আলাদা, তার ওপর প্রচণ্ড গরম। আমাদের দ্রুত এই কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে, কারণ বিশ্বকাপে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যায়। আসলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই এমন কঠিন হয়। তার ওপর মরক্কো সত্যিই খুব ভালো ফুটবল খেলেছে।"