সড়কে নিম্নমানের ইট স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাটির রাস্তায় ইট বসানোর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের ইট ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে সরকারি অর্থের হরিলুট করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠার। একইসঙ্গে সড়কের স্থায়িত্বকাল নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে সমালোচনা।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ডকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নাঙ্গলকোট উপজেলার তিনটি সড়কে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পায় মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় মক্রবপুর ইউনিয়নের মঘুয়া মাস্টারপাড়া থেকে মক্রবপুর উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত ৫০০ মিটার, দৌলখাঁড় ইউনিয়নের পাইকোট হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ব্যাপারীবাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার এবং পেরিয়া ইউনিয়নের মুরগাঁও এলাকার হোসেনের দোকান থেকে মাইরাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়কে এইচবিবি নির্মাণের কথা রয়েছে।

সম্প্রতি মক্রবপুর এলাকার সড়কটির কাজ পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাস্তা প্রস্তুতের জন্য বক্স কাটার পর সেখানে মাটি মিশ্রিত বালু ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী কাজ বন্ধের দাবি জানান। পরে নির্মাণকাজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, তার মান খুবই খারাপ। অনেক ইটেই মান নির্ধারণের কোনো নম্বর নেই। বালুর সঙ্গে অতিরিক্ত মাটি মেশানো হয়েছে। এভাবে কাজ করলে রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বলেন, তিনি সরেজমিনে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করবেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবেদ আলী বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।