বিয়ে এড়াতে অপহরণ নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান

বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান। কুমিল্লা জেলা পুলিশের তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। গতকাল শনিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এদিকে ভুক্তভোগী এক নারীর করা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রƒণ নষ্টের মামলায় পুলিশ জিসানকে গ্রেপ্তার করেছে। জিসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহমেদ দাউদকান্দি থানায় জিডি করেন। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন জিসান। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আরও একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হন। গর্ভধারণের বিষয়টি জানাজানি হলে জিসান তরুণীকে ভ্রুণ নষ্ট করতে চাপ দেন। এতে রাজি না হলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তরুণী সম্মত হলে তাকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়।

পুলিশ সুপার জানান, পরে ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। তবে তার আগের দিন সন্ধ্যার পর তিনি আত্মগোপনে যান এবং চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের জিডি করান। নিখোঁজের ঘটনার তদন্ত চলাকালে লাকসাম এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী তরুণী দাউদকান্দি থানায় জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামি জিসান মিয়া প্রধান, তার চাচাতো ভাই সজিব ও ওষুধ বিক্রি করা ফার্মেসির লোককে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সুপার জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে জিসানকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র পেলেই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে এ ঘটনায় জিসানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। গতকাল শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।