জনসংখ্যা সীমিতকরণ প্রস্তাবে সুইজারল্যান্ডে গণভোট আজ

সুইজারল্যান্ডে রবিবার (১৪ জুন) একটি বিতর্কিত অভিবাসনবিরোধী প্রস্তাব নিয়ে ভোট দিচ্ছেন নাগরিকরা। প্রস্তাবটি দেশটির জনসংখ্যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে চায়। একই সঙ্গে সামরিক সেবায় মানবিক বিবেচনার সুযোগ সীমিত করার বিষয়েও আরেকটি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেশটির সরাসরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই দুটি প্রস্তাব ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, উভয় ভোটই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

সুইজারল্যান্ডে ভোটকেন্দ্রগুলো রোববার সকালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা থাকবে এবং দুপুর ১২টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা) বন্ধ হয়ে যাবে। এর আগেই অধিকাংশ নাগরিক ডাকযোগে আগাম ভোট দিয়েছেন। মধ্যাহ্নের পর প্রথম ফলাফল প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা তৈরি করেছে 'নো টু আ সুইজারল্যান্ড উইথ ১০ মিলিয়ন!' শীর্ষক উদ্যোগটি, যা উগ্র ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি বা এভিপি-র পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ধনী আলপাইন দেশটির জনসংখ্যা—বর্তমানে প্রায় ৯.১ মিলিয়ন—২০৫০ সালের আগে ১০ মিলিয়নের বেশি হওয়া ঠেকাতে হবে।   

যেখানে দেশটিতে মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক, সেখানে এই প্রস্তাব পাস হলে অভিবাসন কার্যত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এসভিপি সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, 'গণ-অভিবাসন' দেশটির নানা সমস্যার জন্য দায়ী—এর মধ্যে রয়েছে আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহনে ভিড় এবং যানজট।

এসভিপির সংসদ সদস্য ইয়ভান পাহুদ এএফপিকে বলেন, 'সুইজারল্যান্ড একটি ছোট দেশ, যেটি আর বড় করা সম্ভব নয়।' 
 
তিনি আরও বলেন, 'আমরা ইউরোপের সব মানুষকে এখানে গ্রহণ করতে চাই না।'

তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রস্তাব পাস হলে তা ‘অরাজকতা’ তৈরি করতে পারে এবং অর্থনীতির বড় অংশ অচল হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।