ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী রবিবার (১৪ জুন) ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করা একটি রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরএক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটি রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা পরিচালনা করেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, তদন্ত চলমান থাকায় জাহাজটিকে দক্ষিণ উপকূলের কাছে নজরদারিতে রাখা হবে। ব্রিটেনের আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে এ ধরনের আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, তিনি এই আটক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 'এই সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। এটি আবারও তাদের মনে করিয়ে দেয়, যারা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, আমরা তাদের আড়ালে থাকতে দেব না।'
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পুরো অভিযান প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে। জাহাজটিকে পরে দক্ষিণ ইংল্যান্ড উপকূলের একটি নোঙর এলাকায় নেওয়া হবে এবং পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এর আগে গত মাসে ফ্রান্সের নৌবাহিনী ব্রিটেনের সহযোগিতায় একটি সন্দেহভাজন রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করে, যা ভুয়া ক্যামেরুন পতাকা ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ ছিল। জানুয়ারিতে ফরাসি বাহিনী আরেকটি জাহাজ ‘গ্রিঞ্চ’ আটক করে এবং মার্চে ‘দেয়না’ নামের আরেকটি ট্যাংকার মার্সেইতে জব্দ করা হয়। রাশিয়ার অর্থনীতির একটি বড় অংশ আসে তেল রাজস্ব থেকে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা করছে। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হয়।
যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙা নৌবহরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, এবং এর ফলে ২০২৫ সালে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আয় আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব জাহাজ আটকের ঘটনাকে “দস্যুতা” বলে অভিহিত করেছেন।