রাশিয়া টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তার’ অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি নোটিশ জারি করেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
এফএসবির দাবি, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ প্ল্যাটফর্মে থাকা এমন বহু চ্যানেল, চ্যাট ও বট অপসারণে ব্যর্থ হয়েছে, যেগুলো ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো রাশিয়ার ভেতরে নাশকতা, সন্ত্রাসী হামলা, গণহত্যা এবং সাইবার জালিয়াতির মতো কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে ব্যবহার করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
এফএসবি আরও জানায়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো টেলিগ্রামের একটি জনপ্রিয় ডেটিং চ্যাটবট ব্যবহার করে রুশ নাগরিকদের নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্রলুব্ধ করেছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী অন্তত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান হিসেবে পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রেপ্তারি নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাশিয়ার আইনে তার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া ৪১ বছর বয়সী পাভেল দুরভ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে তার কাছে ফরাসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব রয়েছে। ইন্টারনেটের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রচেষ্টার কারণে অতীতে একাধিকবার মস্কোর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
টেলিগ্রাম বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম। ব্যবহারকারীদের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে চাপ সৃষ্টি করতে রুশ কর্তৃপক্ষ অতীতে একাধিকবার টেলিগ্রামের কার্যক্রম সীমিত বা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।
আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি নোটিশ ঘোষণার কিছুক্ষণ পর টেলিগ্রামের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পাভেল দুরভের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে মধ্যমা আঙ্গুল প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে দুরভ বা টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, সেন্ট পিটার্সবার্গে জন্ম নেওয়া পাভেল দুরভ প্রথমে রাশিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকন্টাকতে (VKontakte) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ‘রাশিয়ার ফেসবুক’ নামে পরিচিত। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার পর তিনি টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসরত দুরভ সেখানে টেলিগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগেও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন।
