ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রা গেঁটেবাত, কিডনিতে পাথর এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে তা জানা থাকা জরুরি। তাহলে ইউরিক অ্যাসিড জমা হওয়া কমানো এবং সুস্থ থাকা সহজ হবে।
খাদ্যাভ্যাস কীভাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাকে প্রভাবিত করে
উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডকে এখন আর শুধু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এটি বারবার গাঁটে ব্যথা, গেঁটেবাতের আক্রমণ, কিডনিতে পাথর তৈরি, বিপাকীয় ব্যাধি এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কখনও কখনও ওষুধের প্রয়োজন হয়, কিন্তু অনেকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমানো সম্ভব।
যদিও অনেকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার বিষয়ে সচেতন। তবে অনেকে আবার এই বিষয়টি উপেক্ষা করেন যে এমন কিছু খাবার আছে যা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের সক্রিয় ও প্রত্যক্ষ কারণ অথবা শরীর থেকে এর অপসারণে বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি আপনি থেরাপিতে থাকা অবস্থাতেও কিছু খাবার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড থাকলে খাদ্যতালিকা থেকে যে ৭টি খাবার বাদ দেবেন-
১. কলিজা
কলিজা, কিডনি এবং মগজের মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস হলো প্রথম সারির সেইসব খাদ্যের মধ্যে অন্যতম যা কঠোরভাবে সীমিত করা উচিত। এই খাবারগুলোতে পিউরিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে, যা পাচক এনজাইম দ্বারা ভেঙে ইউরিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। এগুলো নিয়মিত খেলে তা শরীরের ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদনের ওপর একটি বিশাল অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে গেঁটেবাত বেড়ে যেতে পারে।
২. লাল মাংস
আরেকটি উল্লেখযোগ্য উৎস হলো লাল মাংস, বিশেষ করে ভেড়ার মাংস, এবং অতিরিক্ত পরিমাণে গরুর মাংস। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য, কিন্তু উচ্চ মাত্রার পিউরিনযুক্ত প্রাণিজ প্রোটিন অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীর এমন অবস্থায় পড়ে যে এটি কার্যকরীভাবে ইউরিক অ্যাসিড দূর করতে পারে না। পরিমিত পরিমাণে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহায়ক হতে পারে।
৩. কিছু সামুদ্রিক খাবার
কিছু সামুদ্রিক খাবার, যেমন শেলফিশ, চিংড়ি, সার্ডিন এবং অ্যাঙ্কোভিতেও পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকে। সামুদ্রিক খাবার গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের উৎস, কিন্তু যাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি তারা হয়তো এটি বেশি পরিমাণে না খাওয়াই উত্তম। তাদের এমন খাবার খাওয়া উচিত যাতে পিউরিনের পরিমাণ কম।
৪. চিনিযুক্ত পানীয়
চিনিযুক্ত পানীয় অবশ্যই পরিহার করতে হবে। চিনিযুক্ত সফট ড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত ফলের রস, এনার্জি ড্রিঙ্কস এবং চিনিযুক্ত পানীয় ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এমনকি যদি এগুলোতে পিউরিন না-ও থাকে, এগুলো ফ্রুক্টোজ বিপাকের সময় পিউরিনের ভাঙনকে উদ্দীপিত করে।
৫. অ্যালকোহল
আরেকটি বড় কারণ হলো অ্যালকোহল। এটি শুধু ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদনকেই উদ্দীপিত করে না, বরং কিডনির ইউরিক অ্যাসিড নিষ্কাশনের ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। অনেক কারণ রয়েছে যা গেঁটেবাতের আক্রমণকে উস্কে দেয় এবং এর মধ্যে অন্যতম হলো অতিরিক্ত মদ্যপান, তাই অ্যালকোহল পরিহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ইনস্ট্যান্ট ফুড
প্রদাহ, ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ার অস্বাভাবিকতা- এই সবই প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং তেলে ভাজা খাবারের মতো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ফাস্ট ফুডের সঙ্গে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত ওজন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং গেঁটেবাতের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ঝুঁকি।
৭. পরিশোধিত শর্করা
সাদা রুটি, পেস্ট্রি, কেক, বিস্কুট এবং মিষ্টির মতো অতিরিক্ত পরিশোধিত শর্করা জাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত। এই খাবারগুলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে, যার ফলে মূত্রের মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড ঠিকমতো নির্গত হয় না।