৬৪ জেলায় স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

ভয় নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক হবে ভালোবাসার: মাহ্‌দী আমিন

আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেছেন, ভয় নয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক হবে ভালোবাসার। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী মিলে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে একটি সৃজনশীল ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, মেধা ও উদ্ভাবনকে ছড়িয়ে দিতে এই ভিন্নমাত্রিক আয়োজনটি শুধু ঢাকায় নয়, একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে সারা দেশ থেকে প্রায় ১২ হাজার টিম অংশ নিয়েছে। এতে ৩৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এবং ২৪ হাজার শিক্ষক সম্পৃক্ত রয়েছেন।

মাহ্‌দী আমিন তাঁর বক্তব্যে অতীতের স্মৃতি চারণ করে বলেন, একটি কঠিন সময়ে রাষ্ট্রীয় নানা চাপের মাঝেও ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভী’ দেশজুড়ে বহু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গড়ে তুলেছে। তাদের এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজকে প্রসারিত করেছে। তখন ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে অনলাইনে সায়েন্স ফেয়ার, আর্টস কম্পিটিশন এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল। কোনো সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণীর আন্তরিক উদ্যোগে এই কার্যক্রমগুলো বছরের পর বছর ধরে বিকশিত হয়েছিল। আজ আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেটিকে মডেল হিসেবে ধারণ করতে পেরেছি।

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামী বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি সৃজনশীল ও আধুনিক করে তোলা হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য হওয়ার পাশাপাশি তাদের মাঝে সুনাগরিকের মূল্যবোধ, পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষা গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, ড্রয়িং, ডিবেট, আবৃত্তি, খেলাধুলা কিংবা যার যা ভালো লাগে—সেই সৃজনশীল চর্চার সুযোগ পাবে। সরকার নীতিগত সহযোগিতা ও ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে, যেন তারা নিজ নিজ পছন্দের পেশায় মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে হলে আমাদের যে বিপুল পরিমাণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট (তরুণ প্রজন্ম) রয়েছে, তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে। আর এই কারিগরদের গড়ে তোলার মূল কাণ্ডারী হলেন আমাদের শিক্ষকরা।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি মেধার বিকাশ ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।