কক্সবাজার সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকায় বিমান বন্দরে রাত ১টা ২৫ মিনিট পৌঁছান এবং সেখান থেকে বাসায় এসেছেন ১টা ৪০ মিনিটে।
এর আগে দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বাগত জানান।
সফরের শুরুতেই তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় যান। সেখানে তাঁর বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন। সেখান থেকে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গিয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় যান। সেখানে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম-এর কবর জিয়ারত করেন। পরে শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।
পেকুয়া সফরে তিনি পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি মাতামুহুরি উপজেলা ও থানা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।
সন্ধ্যায় চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
রাতে তিনি কক্সবাজারের লং বীচ হোটেল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেন। সেখানে বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পুরো সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলের তাঁর সহধর্মিণী ব্যারিস্টার জুবাইদা রহমান। পাশাপাশি সফরসঙ্গী ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কক্সবাজার জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।
অস্ট্রেলিয়াকে 'বাংলাওয়াশের' হাতছানি টাইগারদের