বড় ‘মরুভূমি’ অ্যান্টার্কটিকা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘মরুভূমি’ অ্যান্টার্কটিকা। মরুভূমির যে যে বৈশিষ্ট্য, সব রয়েছে তার। সাহারা মরুভূমি থেকেও বড় অ্যান্টার্কটিকা। আকাশ থেকে একটি অঞ্চলে কতটা পানি পড়ল, তা দেখে নির্ধারিত হয় মরুভূমির সংজ্ঞা। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকায় আকাশ থেকে বছরে যা অধঃক্ষেপণ হয়, তা হিসাব করে তাকে দেওয়া হয়েছে ‘মরুভূমি’র চিহ্ন। বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি হয়, তখন মেঘের জলকণা ভারী হয়ে মহাকর্ষের টানে পৃথিবীতে ঝরে পড়ে। তাকেই বলে অধঃক্ষেপণ বা প্রেসিপিটেশন। কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যদি বছরে ২৫০ মিলিমিটারের কম অধঃক্ষেপণ হয়, তবে তাকে মরুভূমি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। ‘স্পেস ডেইলি’র প্রতিবেদন বলছে, গত কয়েক বছরে অ্যান্টার্কটিকার উপকূল সংলগ্ন এলাকায় বছরে গড়ে ২০০ মিলিমিটার অধঃক্ষেপণ হয়েছে। মেরু সংলগ্ন এলাকায় বছরে অধঃক্ষেপণের পরিমাণ ১০ মিলিমিটার। আর  অ্যান্টার্কটিকায় গড়ে বছরে অধঃক্ষেপণের পরিমাণ ১৬৬ মিলিমিটার। এ কারণে তাকে ‘মরুভূমি’র  চিহ্ন এনে দিয়েছে। অনেকের ধারণা, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি সাহারা।

তা কিন্তু নয়। ৯২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে সাহারা। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি। আর সবচেয়ে বড় ‘মরুভূমি’ অ্যান্টার্কটিকা। এক কোটি ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ঘটনাক্রমে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি শীতল। বিজ্ঞানীরা বলছেন অ্যান্টার্কটিকা শুষ্ক, কারণ তা শীতল। ঠা-া বাতাস, জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। বাতাস যত ঠা-া হয়, তত জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা কমে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৩০০ মিটার ওপরে রয়েছে বরফ ঢাকা অ্যান্টার্কটিকা। উচ্চতা যত বেশি, বাতাসে তত কমতে থাকে জলীয়বাষ্প। সেই হিসেবে অ্যান্টার্কটিকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অনেক কম। পৃথিবীতে যত বরফ রয়েছে, তার ৯০ শতাংশ অ্যান্টার্কটিকায়। পৃথিবীর মিষ্টি পানি ভা-ারের ৭০ শতাংশের অবস্থান সেখানে। এখানে দীর্ঘকাল ধরে জমে থাকে বরফ, এতে সাহায্য করে তার শুষ্কতা।