বয়সটা সবে ১৮। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, তখন যেকোনো কোচের জন্যই তাকে মাঠে নামানোটা ছিল এক শক্ত সিদ্ধান্ত। তবে এই বিষয়ে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহাবির ডিকশনারিতে ‘ভয়’ বা ‘ঝুঁকি’ বলে কোনো শব্দ ছিল না। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে যখন আয়ুব বুয়াদ্দি নামের এক তরুণকে নামিয়ে দেওয়া হলো, তখন ফুটবল বিশ্ব কিছুটা চমকে উঠেছিল। কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে সেই বিস্ময় রূপ নিল মুগ্ধতায়। সেলেসাওদের বিশ্বসেরা তারকাদের চোখে চোখ রেখে মাঝমাঠ শাসন করলেন এই মরক্কো মিডফিল্ডার (ছবিতে ৬ নম্বর জার্সি)।
ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলা বুয়াদ্দি মাসখানেক আগেই মরক্কোর জার্সি গায়ে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর সিনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি মুখোমুখি হলেন ব্রাজিলের। ১-১ গোলে ড্র হওয়া এই ম্যাচে ইসমায়েল সাইবারির গোলে মরক্কো এগিয়ে যাওয়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রাজিলের হয়ে সমতা ফেরান। তবে নিউ ইয়র্কের গ্যালারি বুয়াদ্দির পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে ছিল। মাঝমাঠে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ কাঁপানো রদ্রিগোদের ওপর যেভাবে তিনি ছড়ি ঘুরিয়েছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বুয়াদ্দিকে নিয়ে ওয়াহাবি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘কেবল ১৮ বছর বয়স বলেই তাকে খেলানোটা ঝুঁকি ছিল না। আমি খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দেখি, বয়স নয়। সে ১৭ বছরের হোক বা ৩৫-এর, ভালো খেললে মাঠে নামবেই। ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে ঝুঁকি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমরা নিশ্চিত ছিলাম সে বড় ম্যাচ উপহার দেবে।’
বুয়াদ্দি যেন করে দেখালেন সেটাই। তাই তো ম্যাচ শেষে তাকে নিয়ে আলোচনায় মেতেছে ফুটবল পাড়া। সেখানে ম্যাচে আরও এক তরুণ এন্দ্রিক সম্ভাব্য থাকার কথা ছিল আলোচনায়, তবে কার্লো আনচেলত্তি তাকে ম্যাচের পুরো সময় রেখেছেন সাইড বেঞ্চে। তাই তো ব্রাজিলিয়ান এনদ্রিক ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন এই বুয়াদ্দিই।
ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বুয়াদ্দি মাত্র ১৬ বছর বয়সে লিঁলের হয়ে ফরাসি লিগে নাম লেখান এবং ইতিমধ্যেই ৬৩টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে ১-০ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচেও তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল। তাই তো কোচ ওয়াহাবি মনে করিয়ে দিলেন, বুয়াদ্দির বয়স কম হলেও অভিজ্ঞতার ঝুলি মোটেও ছোট নয়।