ইউরো চ্যাম্পিয়নদের সামনে নবাগত কেপ ভার্দে

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

কাগজে-কলমে শক্তির ব্যবধানে তফাৎটা একেবারেই আকাশ-পাতাল। একপক্ষে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও ২০১০ সালের বিশ্বসেরা স্পেন, আর অন্যপক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রাখা আফ্রিকার এক পুঁচকে দেশ কেপ ভার্দে। তবে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ১০টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি কেবল দুই দলের মাঠের লড়াই নয়, এটি বিশ্বফুটবলে প্রযুক্তি ও ভাগ্যের মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্পও।

কেপ ভার্দের এই বিশ্বকাপ যাত্রার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তাদের ৩৩ বছর বয়সী আইরিশ বংশোদ্ভূত ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস। পেশাদার যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যম ‘লিঙ্কডইন’-এর একটি সাধারণ মেসেজ কীভাবে একজন ফুটবলারের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, লোপেস তার জীবন্ত উদাহরণ। কেপ ভার্দের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যখন তাকে প্রথম পর্তুগিজ ভাষায় মেসেজ পাঠায়, তিনি সেটিকে স্প্যাম ভেবে দীর্ঘ ৯ মাস এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরে ইংরেজিতে আবারও যোগাযোগ করা হলে গুগল ট্রান্সলেটের সহায়তায় লোপেস বুঝতে পারেন, এটি কোনো ভুয়া চাকরি নয়, বরং বাবার দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার প্রস্তাব। আয়ারল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে খেলা এই ডিফেন্ডার অবশেষে কেপ ভার্দের জার্সিতে ইতিহাস গড়ে এখন স্পেনের বিশ্বসেরা তারকাদের রুখে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

আফ্রিকান জায়ান্ট ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে মূল পর্বে আসা কেপ ভার্দের জন্য স্পেনের মুখোমুখি হওয়াটা এক বিশাল পরীক্ষা। তবে স্প্যানিশ শিবিরেও রয়েছে কিছুটা অস্বস্তি। ইউরো ২০২৪ জয়ী লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের দুই প্রধান অস্ত্র লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও প্রথম ম্যাচেই তাদের শুরুর একাদশে খেলানোর ঝুঁকি হয়তো কোচ নেবেন না। সেক্ষেত্রে ফেরান তোরেস বা মিকেল ওয়ারজাবালদের ওপর ভরসা রাখতে পারে স্পেন।

তবে ম্যাচ শুরুর আগেই স্পেনের গোলরক্ষক পজিশন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেশ আলোচনা জমে উঠেছে। প্রিমিয়ার লিগে টানা তিনটি গোল্ডেন গ্লোভস জয়ী আর্সেনাল তারকা ডেভিড রায়া উনাই সিমন ও জোয়ান গার্সিয়ার সঙ্গে দলে নিজের জায়গা পাওয়ার লড়াইকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সেখানে রায়া বলেন, ‘আমরা একে অপরকে আরও উন্নত করার জন্য চাপ দিই এবং কোচের জন্য একাদশ নির্বাচন করাটা কঠিন করে তুলি। আমরা এখানে একে অপরকে সাহায্য করতে এসেছি।’

রায়া ১৪ বছর ধরে ইংল্যান্ডে থাকলেও কখনো অন্য দেশের হয়ে খেলার কথা ভাবেননি জানিয়ে সরাসরি যোগ করেন, ‘আমি মনেপ্রাণে স্প্যানিশ। আমি সবসময় স্পেনের হয়েই খেলতে চেয়েছি।’

২০১০ আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তিনটি বিশ্বকাপে স্পেনের সর্বোচ্চ সাফল্য শেষ ষোলোতে ওঠা। এতেই লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলটি এবার ইউরোর ছন্দ ধরে রেখে খরা কাটাতে মরিয়া। অন্যদিকে, কোনো চাপ ছাড়াই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত কেপ ভার্দে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত