ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার একটি গুদামঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রেমিকসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগী কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের কালিতলা এলাকার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলাম (২২), মিন্টুর ছেলে মো. রনি (২১) ও মজিদুর রহমানের ছেলে মো. মাসুদ (২২)।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীরর সঙ্গে প্রায় এক সপ্তাহ আগে কালিতলার তামিম ইসলামের পরিচয় হয়। গত শনিবার বিকেলে ওই কিশোরী বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে তামিম। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে রাত ১১টার দিকে কালিতলা বাজারের পাশে মিন্টুর গোডাউন ঘরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তামিম, তার দুই বন্ধু রনি ও মাসুদ মিলে রাতভর পালাক্রমে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চলায়।
পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পায় এবং অভিযুক্ত তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় মেয়েটিকে গুদামঘর থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় মেয়েটি। রাত গভীর হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে তারা হাসপাতালে ছুটে যান। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, আটক তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তরদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।