চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেনামতি গ্রামের ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি,ধারের টাকা শোধ না করার উদ্দেশ্যে চুক্তিনামার স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতেই মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে এ হত্যা করেছে নিহতদের এক স্বজন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো.মাসুদ আলম।
পুলিশ সুপার বলেন,আনোয়ারায় জোড়া খুনের পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য আনোয়ারা থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া উপজেলা থেকে রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয়কে আটক করা হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো.মাসুদ আলম বলেন,তেজপ্রিয়কে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তেজপ্রিয় বড়ুয়া এ ঘটনার সঙ্গে একমাত্র নিজেই জড়িত দাবি করে বলেন, চাচাত ভাই সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনতে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা নেন। এবং একটি ঋণের চুক্তিপত্র করেন। মাসে মাসে তিনি ঋণ শোধও করতেন। কিন্তু এর মধ্যে কয়েক মাসে ঋণ শোধ করতে না পারায় তাদের মধ্যে মন মালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ঋণের চুক্তিপত্র হাতিয়ে নিয়ে ঋণ পরিশোধ এড়ানোর পরিকল্পনা করেন। এ উদ্দেশ্যে গত ১৩ জুন রাতে সুজনের বাড়ির পেছনে ওৎ পেতে থাকেন। রাতে সুজনের স্ত্রী এনি বড়ুয়া বাইরে বের হলে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান এবং ব্যবহৃত ছুরিটি পাশের ঝোপে ফেলে দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তেজপ্রিয় বড়ুয়ার দেওয়া তথ্যানুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তেজপ্রিয়কে হত্যা ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।