চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্ব জুড়ে বিপুল অর্থব্যয়, কর্পোরেট ক্ষতি এবং মানুষের অগ্রাধিকারবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা শায়খ আহমদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করলেও একটি খেলাকে ঘিরে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে, তা মানবিক মূল্যবোধের গভীর সংকটেরই প্রতিফলন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শায়খ আহমদুল্লাহ এসব কথা জানান।
তিনি লিখেছেন-
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা।
এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবী জুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে পৃথিবী কী পরিমাণ কর্পোরেট ক্ষতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে মানবসম্পদ, বেতন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ইউকেজি’।
চলতি বিশ্বকাপে কর্পোরেট দুনিয়ায় দুই লাখ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে তাদের জরিপে উঠে এসেছে।
জরিপের তথ্য বলছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের রুটিন পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী সরাসরি জানিয়েছেন, তারা দেরিতে অফিসে এসে আগেভাগে চলে গিয়ে কিংবা পুরোপুরি অনুপস্থিত থেকে কর্মদিবস ফাঁকি দিতে পারেন।