গতকাল (৭ আগস্ট, শুক্রবার) মসজিদে হারামের জুমার নামাজে এক কাতারে অংশ নেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবিতে দেখা যায়, তাদের সবার প্যান্ট বা আবা টাখনুর নিচে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। বিষয়টির সঠিক সমাধান জানা জরুরি।
যেসব কাপড় দেহের নিম্নাংশে ঝুলন্ত থাকে যেমন লুঙ্গি, সালোয়ার, প্যান্ট, জুব্বা, কামিজ, আবা ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিধান হলো- পুরুষের জন্য এসব কাপড় টাখনুর উপরে রাখতে হবে, টাখনু ঢাকা যাবে না, টাখনুর নিচে ঝুলানো যাবে না। এটি একটি সাধারণ ও ব্যাপক বিধান। টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলানো কবিরা গুনাহ। কিন্তু কেউ কেউ মনে করেন, অহংকারের নিয়তে করলে হারাম। যদি অহংকারের নিয়ত না থাকে তাহলে কোনো অসুবিধা নেই।
এই ধারণা সঠিক নয়। অহংকারের নিয়ত না থাকলেও এটা নাজায়েজ। আর অহংকারের নিয়তে করা তো আরো মারাত্মক গুনাহ। হাদিস শরিফে এ কাজটিকেই অহংকারের আলামত বলা হয়েছে। সুতরাং এটা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
অনেক সময় দেখা যায়, নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগে মুসল্লিদের কেউ কেউ নিজেদের পাজামা, প্যান্ট ইত্যাদি টাখনুর উপর তুলে নিচ্ছেন বা ইমাম সাহেব বলে দিচ্ছেন, কাপড় টাখনুর উপর তুলে নিন। এতে মনে হয় যেন শুধু নামাজেরর সময়ই কাপড় টাখনুর উপর তুলতে হবে, এ বিষয়টি শুধু নামাজেরর সাথে সম্পৃক্ত, আসলে বিষয়টি এমন নয়।
নামাজের ভিতরে-বাইরে সর্বাবস্থায় কাপড় টাখনুর নিচে পরা কবিরা গুনাহ। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, লুঙ্গির (কাপড়) যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তিন ধরনের লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তাদের প্রথম জন হলো টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) লুঙ্গি-পায়জামা সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন তা জামার ব্যাপারেও প্রযোজ্য।
তথ্যসূত্র : প্রচলিত ভুল : আল কাউসার, সহিহ বুখারি ৫৭৮৭, সহিহ মুসলিম ১০৬, সুনানে আবু দাউদ ৪০৯২, আরিজাতুল আহওয়াজি ৭/২৩৭, ফয়জুল বারি ৪/৩৭৩, শরহু শিরআতিল ইসলাম ১১৭, হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাদ্দুর ৪/১৭৭
একজোট হলো সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্ক