ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নির্দেশিকা

ডায়াবেটিক রোগী অসুস্থ হলে (যেমন, জ¦র, সর্দি, বমি, ডায়ারিয়া ইত্যাদি) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ যতœ নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার সময়ে ঝুঁকি

 হাইপোগ্লাইসেমিয়া   হাইপারগ্লাইসেমিয়া

 ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস   পানিশূন্যতা

ব্যবস্থাপনার মূলনীতি

১. ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধ

 বমি বা পাতলা পায়খানা হলে

ইনসুলিন (সালফোনাইলইউরিয়া) এষরঃরহরফব (গ্লিটিনাইড) গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধের মাত্রা কমিয়ে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

২. ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা : চার ঘণ্টা পরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা। তবে মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে তবে ২ ঘণ্টা পরপর বা আরও ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।

৩. পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: পানিশূন্যতা রোধে ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করে হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করা।

৪. হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

৫. অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনার সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

 যদি ৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভালো না হয়।   ২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন।

  রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা> ১৫ মিলি মোল/লি এর বেশি হয়।   চিকিৎসার পরও প্রস্রাবের সঙ্গে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়।   কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ^াস-প্রশ^াস, পেটে ব্যথা তন্দ্রাচ্ছন্নতা এসব লক্ষণ দেখা দিলে।  রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়।  রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়।  ডায়াবেটিসের সঙ্গে আরও অন্য অসুখ

থাকলে।  যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন।  অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে রোগীর জীবন বাঁচায় এবং তাকে চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।