প্রাণিকুলের মস্তিষ্কে নিউরোনাল নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের সঙ্গে বদলায়। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ‘ব্রেন প্লাস্টিসিটি’। মানুষের জিনগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনের সবচেয়ে কাছের প্রজাতি হিসেবে, শিম্পাঞ্জিকে মানুষ ছাড়া সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে ধরা হয়। কারণ মানুষের ডিএনএর সঙ্গে এদের প্রায় ৯৮-৯৯% মিল রয়েছে। জিন রহস্য আবিষ্কারের আগে ধারণা করা হতো, প্রাণিসাম্রাজ্যে কেবল মানুষই খাবারের জন্য যন্ত্রপাতি করে। জানা যাচ্ছে, শিম্পাঞ্জি এ কাজ বেশ ভালোভাবে করে। তারা লাঠি দিয়ে গর্ত খুঁড়ে উইপোকা খুঁজে, পারে মাছ শিকার করতে এছাড়া অন্যান্য শিকারে পারদর্শী। শিম্পাঞ্জি দুর্গম স্থান থেকে পানির জন্য পাতা দিয়ে বাটি তৈরি করে কিংবা পানি শুষে নেওয়ার জন্য শ্যাওলা ব্যবহার করে। এরপর আর্দ্রতা পেতে গাছ থেকে রস চুষে নেয়। খাদ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে শিম্পাঞ্জি নানা ধরনের সরঞ্জামের ব্যবহার ভালো বোঝে। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক সময় জটিল স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে শিম্পাঞ্জি নাকি মানুষকেও পেছনে ফেলে দেয়। তাদের রয়েছে অত্যন্ত সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা। শিম্পাঞ্জি একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি এবং আওয়াজ ব্যবহার করে। এ ছাড়া যে কোনো নতুন সমস্যা বা ধাঁধার সম্মুখীন হলে, শিম্পাঞ্জি মাথা খাটিয়ে দ্রুত সমাধান বের করে। শিম্পাঞ্জিরা এক উচ্চমানের সমাজে বাস করে। অবাক বিষয় হচ্ছে, তারা মানুষের মতো সুন্দর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারে। এমনকি একজন সঙ্গী মারা গেলে, শোক ও ভালোবাসাও প্রকাশ করে। মানুষের মতো শিম্পাঞ্জি ভাষা শিখতে না পারলেও, সহজে ভাবের আদান-প্রদান নিয়মিত করে। এই প্রাণী বন্য পরিবেশে সাধারণত গড়ে ৪০ বছর এবং চিড়িয়াখানা বা অভয়ারণ্যের মতো বন্দিদশায় ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচে। সঠিক পরিবেশ ও সুরক্ষা থাকলে, কিছু শিম্পাঞ্জি ৭০ থেকে ৮০ বছর বাঁচতে পারে।
মানুষের পরই বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জি
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪২ এএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪২ এএম
মানুষের পরই বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জি
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০