দেশের কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারগুলোতে কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়সসহ সার্বিক অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। আদেশ পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন্স) প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত মাসে দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। রুলে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় কল্যাণ, নিরাপত্তা, বিকাশ এবং জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং আইজি প্রিজন্সকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ৮ মে দেশ রূপান্তরে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা এ রিট আবেদনটি করেন। আবেদনের আরজিতে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করতে কারা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা (রুল বিচারাধীন অবস্থায়) চান আইনজীবী। আদালতে আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। শুনানির সময় তিনি দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়ে শোনান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা আক্তার ও হোসনে আরা বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৯ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন এবং ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এসব শিশুর মায়েদের বেশির ভাগই মাদক মামলার আসামি। এই শিশুদের মায়েদের কেউ সাজা খাটছেন, আবার কারও মামলা রয়েছে বিচারাধীন।
অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হাইকোর্ট গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমরাও বিষয়টির গুরুত্ব শুনানিতে তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, ‘কারাগারগুলোতে যে পরিবেশে শিশুরা বড় হচ্ছে সেটি নিতান্তই অসমীচীন। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে নিশ্চিতভাবে, যা শিশু অধিকার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। অবশ্যই শিশুদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আইনজীবী বলেন, ‘এ অবস্থা উত্তরণে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়েছিলাম। আদালত কারাগারে থাকা শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা, কল্যাণ ও বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে রুল দিয়েছে। কারাগারে কত শিশু আছে তা দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে সব শিশু কারাগারে আছে তারা তো অপরাধী নয়। কিন্তু তাদের থাকতে হচ্ছে আসামিদের সঙ্গে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্দেশনা রুল দিয়েছে।’