মেসির ১৬ ফুট ভাস্কর্য

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশে^। সেই উন্মাদনা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গোপালগঞ্জও। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে জেলার গ্রামাঞ্চলেও এখন বইছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। এদিকে মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ভাস্কর্য। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাদা-মাটি দিয়ে নির্মিত এই ভাস্কর্য তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ টাকা। প্রভাষ দাস, অলক বিশ্বাস, বাদল ম-ল ও সজীব বিশ্বাসসহ এলাকার চার তরুণ গত ২২ মে থেকে বাঁশ, কাঠ, ছন ও মাটি দিয়ে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। ভাস্কর্যটির নির্মাণ সম্পন্ন হতে আরও অনন্ত তিন দিন সময় লাগবে। এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শোভা পাচ্ছে রঙিন পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। কোথাও কোথাও একসঙ্গে খেলা দেখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গ্রামে গ্রামে ফুটে উঠেছে ব্যতিক্রমী সব আয়োজন, যা এলাকাজুড়ে তৈরি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মেসির ভাস্কর্যের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রভাষ দাস বলেন, মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি কোটি ভক্তের আবেগের নাম। তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমরা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করছি। ভাস্কর্যের সামনে বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের টুকুবাজার এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকরা ১২টি খুঁটির ওপর ব্রাজিলের পতাকা, একটি বাংলাদেশের পতাকা এবং একটি দীর্ঘাকৃতির ব্রাজিলের পতাকা টাঙিয়ে এলাকার একটি মোড়ের নাম দিয়েছেন ‘ব্রাজিল মোড়’। স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপ চলার সময় এখানে একসঙ্গে খেলা দেখা, গোল উদযাপন ও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ব্রাজিল মোড় নামকরণের অন্যতম উদ্যোক্তা রিফাত খাকি বলেন, ফুটবল তাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। তাই প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে তারা ১৩টি পতাকা টাঙানোর পাশাপাশি ৫০ ফুট দীর্ঘ একটি পতাকা দিয়ে এই মোড় সাজিয়েছেন। আরেকজন ব্রাজিল সমর্থক বর্ণ রহমান বলেন, এই মোড় আমাদের গর্ব। আমরা একসঙ্গে খেলা দেখব, আনন্দ ভাগাভাগি করব। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক মো. নাজমুল শেখ বলেন, আমরা রাতইল পশ্চিম চরপাড়া গ্রামে আর্জেন্টিনার সমর্থনে প্রায় ১ হাজার ফুট দীর্ঘ পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছি। ব্রাজিল সমর্থকরাও বসে নেই। বহুগ্রাম বাজার এলাকায় তারা স্থাপন করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের বিশাল প্রতিকৃতি। পাশাপাশি বাজারজুড়ে টানানো হয়েছে প্রায় ৩৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রাজিলের পতাকা।

এলাকাজুড়ে শুধু আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নয়, দেখা গেছে জার্মানি ও স্পেনের সমর্থকদেরও সরব উপস্থিতি। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উড়ছে এসব দেশের পতাকা। কোথাও ‘ব্রাজিল মোড়’, কোথাও মেসির বিশাল ভাস্কর্য সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে গোপালগঞ্জের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে।