১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ

ভারত আগ্রাসী আচরণ করছে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তসমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক চাই। এদেশের জনগণ কারও কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, করবে না।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগে সীমান্তহত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনে গিয়ে শেষ হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখ-তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু আপনারা (ভারত) আমাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি। ভারত ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে ভারত বন্দিবিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করেছে।’ তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে এদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, লাল-সবুজ পতাকার ভূখ- রক্ষায় এদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন রুখে দিতে বিজিবিকে সহযোগিতায় প্রস্তুত আছে। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায়, তবে এদেশের জনগণ সেটি মেনে নেয় না, নেবে না। সে সময় তিনি ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘অভিন্ন আকাশের স্বপ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিম কার্ড খেলা করে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম।’ তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন, তবে আবারও মুজিববাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকা- ঘটাচ্ছে, পুশইন করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছে এটি বর্ডার কিলিং নয়!’ তাহলে বর্ডার কিলিং কাকে বলে সেটি স্পষ্ট করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে বুঝা দরকার সীমান্তহত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে, তা আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি।’ তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয়; নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর তারা দালাল হয়ে যান। আজকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাসান মাহমুদের ভাষায়।’ তিনি, শুভেন্দু অধিকারী ও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দাবি করে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার আহ্বান জানান।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করায় ভারত সুযোগ নিচ্ছে। বিএনপি মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন মোদির সনদে দেশ পরিচালনা করছে। যারাই মোদির সনদে চলেছে তাদের ঠিকানা ভারতে হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত