টেক্সাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডস-জাপান ম্যাচের তখন ৮৮তম মিনিট। জুনিয়া ইতোর কর্নার কিকের বলে লাফিয়ে উঠে চমৎকার এক হেড করেন কোকি ওগাওয়া। ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করার আগে বলটি দাইচি কামাদার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ৬৯,২৮৫ দর্শকের মধ্যে উপস্থিত জাপানি সমর্থকদের আর পায় কে। নীল উৎসবে মেতে ওঠে তারা। কারণ, নাটকীয় এই গোলে ফেভারিট নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ‘সামুরাই ব্লু’রা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে ডাচরা আধিপত্য বজায় রাখলেও জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ডনিয়েল মালেনের একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর মালেন ও ফন ডে ভেনের প্রচেষ্টাও সুজুকির দক্ষতায় নস্যাৎ হয়। বিপরীতে, প্রথমার্ধে পাল্টা আক্রমণে গিয়েও জালের দেখা পায়নি মোরিয়াসুর দল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫২ মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্খের ক্রস থেকে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে এই লিড মাত্র ৬ মিনিট স্থায়ী হয়। ৫৭ মিনিটে তাকেফুসা কুবোর অ্যাসিস্ট থেকে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান কেইতো নাকামুরা। এরপর ৬৪ মিনিটে ক্রাইসেনসিও সামারভিল গোল করে আবারও নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন। যখন মনে হচ্ছিল ডাচরা পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেতে যাচ্ছে, তখনই ৮৮ মিনিটে জুনিয়া ইতোর কর্নার থেকে দারুণ হেডে সমতা ফেরান দাইচি কামাদা।
ম্যাচে দুই বার পিছিয়ে গিয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ গল্প লেখার ম্যাচ শেষে জাপানের কোচ মোরিয়াসু বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস অত্যন্ত শক্তিশালী দল এবং ম্যাচটি ভীষণ কঠিন ছিল। তবে আমার খেলোয়াড়রা ঐক্যবদ্ধ থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে।’
তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত শেষ ষোলোর রাউন্ড পার হতে না পারা জাপানের নজর শুরু থেকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে। তাই তো শক্তিশালী ডাচদের থামিয়েও সন্তুষ্ট নন মোরিয়াসু। ‘অবশ্যই ১ পয়েন্ট নিয়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই, কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল পূর্ণ ৩ পয়েন্ট।’
অন্যদিকে, ড্রয়ের ফলে ডাচদের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সংবাদ সম্মেলনে বেশ কঠোর ছিলেন রোনাল্ড কোম্যান। অবশ্য দায় মেনেছেন ডিফেন্সে গড়বড়ের। তাই তো অন্যতম শক্তিশালী রক্ষণের তকমা নিয়ে নামলেও জাপান তাদের টেক্কা দিয়েছে ভালোভাবেই। এতেই নিজের ট্যাকটিক্স ও বদলি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, ‘উইং ধরে আমরা ঠিকমতো চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি। ম্যাচের দিকে তাকালে দেখবেন, দুই গোল হজমের পেছনেই মূলত আমাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা ছিল। আমরা ঠিকমতো ডিফেন্ড করতে পারিনি।’
তবে কিনিজের করা তিন সাবস্টিটিউশন এবং শেষ দিকে রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে কোনো আফসোস আছে কোম্যানের। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিজের সিদ্ধান্তের জন্য আমার কোনো আক্ষেপ নেই। ফুটবল অদ্ভুত এক খেলা, জাপান দ্বিতীয় গোলটি করার পর তারাও রক্ষণাত্মক হয়ে গিয়েছিল। আমরা চাইলেই তৃতীয় গোলটি করতে পারতাম। আমরা অবশ্যই আরও ভালো খেলতে পারতাম, তবে এটা আমাদের সেরা পারফরম্যান্স ছিল না।’