‘মরুভূমির শেয়াল’দের থেকে সাবধান

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

বিশ্বখ্যাত ফরাসি লেখক অঁতোয়ান দ্য স্যাঁত-এক্সুপেরি তার অমর উপন্যাস ‘দ্য লিটল প্রিন্স’-এ ‘শেয়াল’ চরিত্রটিকে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে যেমন দেখিয়েছেন, ঠিক তেমনি মরুভূমির এক বন্যপ্রাণী হিসেবেও ফুটিয়ে তুলেছেন। উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলকেও ফুটবলবিশ্ব চেনে এই বিশেষ নামে ‘লে ফেনেক্স’, যার ফরাসি অর্থ ‘মরুভূমির শেয়াল’। আর এই মরুভূমির শেয়ালরাই মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন সকালে) বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুন এক ইতিহাস গড়তে উন্মুখ হয়ে আছে।

টানা দুবার ফুটবল বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর, আলজেরিয়া এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এক বড়সড় ‘ধামাকা’ বা অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে. আর তাদের এই স্বপ্নের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি ও চমৎকার সব পরিসংখ্যান। কেন আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই আর্জেন্টিনার সামনে বিশ্বমঞ্চে বড় দল বধের পুরনো ইতিহাস : ফুটবল বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বড় দলগুলোকে ভড়কে দিতে তারা ওস্তাদ :

১৯৮২ সালের সেই বিখ্যাত জয় : স্পেনে অনুষ্ঠিত ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই আলজেরিয়াই শক্তিশালী পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল (যদিও পরে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার এক লজ্জাজনক পাতানো ম্যাচের কারণে আলজেরিয়াকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়, যা পরে ফিফাকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে আয়োজন করার নিয়ম করতে বাধ্য করে)।

২০১৪ সালের লড়াই : ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে (যারা সেবার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল) শেষ ষোলোর ম্যাচে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিল এবং ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছিল।

কাতারের অতীত শিক্ষা : কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের সেই অবিশ্বাস্য জয় এখনো আলবিসেলেস্তেদের মনে টাটকা থাকার কথা। আলজেরিয়াও সেই একই রকমের একটি রূপকথা লিখতে চাইছে।

বিশ্বকাপের ঠিক আগের দুটি প্রীতিম্যাচে উড়ন্ত জয় তুলে নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস ও কানসাস সিটিতে পা রেখেছে আলজেরিয়া। তারা রটারডামে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে ১-০ গোলে এবং এরপর বলিভিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪-০ ব্যবধানে।

বসনিয়ান কোচ ভøাদিমির পেতকোভিচ (যিনি অতীতে সুইজারল্যান্ড জাতীয় দল এবং ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওর দায়িত্ব সামলেছেন এবং যেখানে স্ক্যালোনিকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাও তার আছে) দলটিকে এক নিটোল রক্ষণাত্মক শক্তি ও অল-আউট প্রেসিং ফুটবলে রূপান্তর করেছেন।

রক্ষণভাগ ও গোলপোস্ট : আলজেরিয়ার গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান, যিনি স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাডায় খেলেন (অনুশীলনে মুখে সুরক্ষামূলক মাস্ক পরে থাকলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলা নিশ্চিত)। রক্ষণে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির রায়ান আইত-নুরি এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের রামি বেনসেবাইনি।

মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ : মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন মিলানের বেনাসার, বায়ার লেভারকুসেনের মাজা এবং আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের ফারেস শাইবি। আর স্ক্যালোনির ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখতে আক্রমণভাগে আছেন উলফসবার্গের আমৌরা ও লিওঁর বেনরাহমা। এর সঙ্গে দলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে তো আছেনই ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক মহাতারকা রিয়াদ মাহরেজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত