তিউনিসিয়াকে ওড়াল সুইডেন

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে একটি গোলও হজম না করে মূল মঞ্চে পা রেখেছিল তিউনিসিয়া। তবে বিশ্বমঞ্চে সেই গর্বের দেয়াল স্রেফ তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেলো সুইডিশ ঝড়ে। মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেই স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে আসরে দাপুটে শুরু করেছে গ্রাহাম পটারের দল। জোড়া গোল করেছেন তরুণ ইয়াসিন আয়ারি। তবে মূলত আক্রমণভাগের দুই তুরুপের তাস আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর ইয়োকেরেসের রসায়নের কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে আফ্রিকান প্রতিনিধিদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়ার রক্ষণের ওপর স্টিম রোলার চালাতে থাকে সুইডেন। যার ফল আসে খেলার মাত্র ৭ মিনিটে; ইয়াসিন আয়ারির দূরপাল্লার বুলেট গতির এক শট জালে জড়িয়ে গোল উৎসবের সূচনা করে। ৩০ মিনিটে ইসাক ব্যবধান দ্বিগুণ করলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তিউনিসিয়া। যদিও ৪৩ মিনিটে হানিবাল মেজব্রির ক্রস থেকে করা হেডে তিউনিসিয়ার পক্ষে একটি গোল শোধ করেন ওমার রেকিক, যা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে সুইডিশরা। ৫৯ মিনিটে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক শামাখের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেন ইসাক। গোলরক্ষকের হাত থেকে আসা বল ছিনিয়ে নিয়ে তিনি পাস দেন ইয়োকেরেসকে, যিনি গোল করতে কোনো ভুল করেননি। ম্যাচের শেষ দশ মিনিট ছিল শুধুই নাটকের ঘনঘটা। ৮৫ মিনিটে মাঠে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মাথায় প্রথমবার বল ছুঁয়েই গোল করেন বদলি খেলোয়াড় মাতিয়াস সভেনবার্গ। যদিও শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বেজেছিল, তবে ভিএআর দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সেটিকে গোলের স্বীকৃতি দেয়। যোগ করা সময়ে আয়ারি নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করলে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় সুইডেনের।

ম্যাচ শেষে সুইডিশ আক্রমণভাগে ইসাক-ইয়োকেরেস জুটির বন্দনায় মাতেন কোচ গ্রাহাম পটার। তাদের ভরে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে তারা অবশ্যই শীর্ষ স্তরের খেলোয়াড়, তবে আমি মনে করি তারা একসঙ্গে থাকলে প্রতিপক্ষের জন্য এক সত্যিকারের হুমকি। তারা একে অপরকে খুব ভালো পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং তারা যত বেশি খেলবে, ততই আরও ভালো হয়ে উঠবে।’

এদিকে নিজেদের রক্ষণভাগ তছনছ হতে দেখে বিধ্বস্ত তিউনিসিয়া কোচ সাব্রি লামুশি। তিনি মনে করেন ব্যক্তিগত ভুলগুলোই তাদের ডুবিয়েছে। ‘এটি একটি কঠিন এবং যন্ত্রণাদায়ক পরাজয়। এত বড় হার দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা সত্যিই কষ্টসাধ্য। আমরা সুইডেনের আক্রমণভাগের শক্তি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু তাদের বিশ্বমানের দুই ফরোয়ার্ডকে আটকানোর মতো সামর্থ্য আমাদের ছিল না।’

তবে বড় পরাজয়ে পর এখানেই দমে যাচ্ছে না তিউনিসিয়া। ম্যাচে একাধিক ভুল হলেও আত্মসম্মান আর উন্নত ভাবমূর্তি নিয়ে পরের ম্যাচে ফিরতে চায় সাব্রি লামুশির দলটি।