দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রভা

ছোট পর্দার এক সময়ের তুমুল ব্যস্ত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ে নেই বললেই চলে। মাত্র একটি স্ক্যান্ডালই তাকে শোবিজ থেকে দূরে ফেলে দেয়। মাঝখানে নানাভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও বার বার ব্যর্থ হন তিনি। আর তখন থেকেই বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। 

এতদিন এসব বিষয়ে নীরবতা পালন করলেও সম্প্রতি নিজের ফেসবুক লাইভে এসে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এবং সাইবার অপরাধী ও বুলিংকারীদের বিরুদ্ধে কিছু 'জ্বালাময়ী সত্যি কথা' বলেছেন। লাইভে ভিডিও বার্তার শুরুতেই প্রভা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা না বললেও নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এখন আর চোখ বন্ধ করে থাকা সম্ভব নয়। তাই নিজের ভেতরে থাকা সত্যিগুলো প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। 

অনলাইনে যারা অন্যদের ট্রল ও বুলি করেন, হিউম্যান সাইকোলজি ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের গবেষণার সূত্র ধরে তাদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রভা। তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান, নিজের সৌন্দর্য, নিজের কোয়ালিফিকেশন—এই সবকিছুর প্রতি ইনসিকিউরিটি (নিরাপত্তাহীনতা) থাকার জন্যই তো মানুষকে মক (কটূক্তি) করেন। যারা মানুষের ব্যাপারে এত অ্যাগ্রেসিভলি জাজ করে, বুলি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্বালি অ্যাবিউজ করে, তারা আসলে নিজেদেরকে নিয়ে স্যাটিসফাইড না এবং তারা দুঃখী। কিন্তু যারা ইনসিকিউর, তারাই ম্যাক্সিমাম টাইমে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সেলিব্রিটি বা আর্টিস্টদের বুলি করে।’ 

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাকে বুলি করা হচ্ছে অলমোস্ট ১৬ বছর ধরে। আপনারা আমাকে বুলি করে মজা পান, এটা আপনাদের একটা পৈশাচিক আনন্দ হয়, তা আমি টোটালি আন্ডারস্ট্যান্ড করি। কিন্তু ঠিক যতটুকু আমাকে বুলি করছেন, তার যদি ৫০ পার্সেন্ট আমাকে (ভিকটিমকে) করে বাকি ৫০ পার্সেন্ট ক্রিমিনালটাকে খুঁজে বের করে মক করতেন, ওকে নিয়ে লেখালেখি করতেন, ওর চেহারাটা বারবার মানুষের সামনে আনতেন যে ও একজন ক্রিমিনাল, তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না।’ 

সমাজে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যেমন আমরা এখন রেপিস্টদের ছবি দিই বা একটা সময় অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের শাস্তি দিতাম, বিশাল পেনাল্টি দেওয়া হচ্ছে। ঠিক তেমনি যারা আরেকটা মানুষের ক্ষতি করে, তাদের সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি ডিসক্লোজ করে, সেটা একটা গুরুতর ক্রাইম। কিন্তু আপনারা সেই মানুষদের বুলি না করে দিন কে দিন ভিকটিমকে বুলি করছেন।’