ইরান চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে ঘোষিত শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ব্যাপক সন্দেহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলেরই অনেক সিনেটর বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় তারা এখনো বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না।

রবিবার (১৪ জুন) ঘোষণা দেওয়া এই সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত আছে। 

তবে ওয়াশিংটনে ফিরে আসা সিনেটররা সোমবার বলেন, চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো অস্পষ্ট। তাদের দাবি, চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্রিফিং প্রয়োজন।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, 'আমি এ বিষয়ে যথেষ্ট জানি না। এমনকি যারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন, তারাও খুব বেশি কিছু জানেন না।'

তিনি আরও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই চুক্তি সম্পর্কে কোনো ব্রিফিং পাননি এবং এর বাস্তবায়ন ও নজরদারি কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অন্যান্য রিপাবলিকান সিনেটররাও। নর্থ ক্যারোলিনার সিনেটর টম টিলিস প্রশ্ন তুলে বলেন, 'যদি এটি একটি গোপন চুক্তি হয়, তাহলে আমরা এটিকে কীভাবে গুরুত্ব সহকারে নেব?'

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস চলতি সপ্তাহেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করবে। তার দাবি, ইরান তাদের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো অর্থ পাবে না।

তবে এখনো স্পষ্ট হয়নি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কে এর যাচাই-বাছাই করবে, কিংবা ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া কী হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নথি প্রকাশ করা হয়নি।

সিনেট নেতা জন থুন বলেন, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক কর্মসূচি ধাপে ধাপে বন্ধ করে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করে, তবে এমন চুক্তি ভালো হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'এটি হতে হবে এমন একটি ব্যবস্থা, যা ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন ঠেকাতে পারে।'

সিনেটর জন কেনেডি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী হলেও চূড়ান্ত নথি না দেখা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তার ভাষায়, 'ইরান সরকারের প্রতি আমি গভীরভাবে সন্দিহান। তারা কথা বলার আগেই মিথ্যা বলা শিখে ফেলে। তাই যেকোনো চুক্তিতে কঠোর নজরদারি ও স্বাধীন যাচাই ব্যবস্থার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।'