যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এ ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি।
তিনি জানান, এমওইউ স্বাক্ষরের পর সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে, যেখানে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে গুরুত্ব পাবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অবকাঠামো পুনর্গঠনের বিষয়গুলো।
দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে, যা চূড়ান্ত সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির লক্ষ্য রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে চায় তেহরান ও ওয়াশিংটন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘোষিত শান্তি সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে আরাঘচি বলেন, এই সমঝোতায় এক পক্ষ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, আর অন্য পক্ষ হিসেবে ইরান ও হিজবুল্লাহকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তার মতে, চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, চলমান যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।