চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় ২০২২ সালে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল (১৭ জুন)। গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে।
আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালত আগামীকাল ১৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।
একইদিন সকালে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চার বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণ মামলার রায়ও ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উক্ত মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একমাত্র আসামি মনির হোসেন কারাগারে আছেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ২১ মে করা মামলার যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শেষ হয়েছে। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ২৭ দিনের মধ্যে এবং অভিযোপত্র দাখিলের ১৩ দিনের মাথায় আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) রায়ের ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াতকে খুন ও তার মরদেহ ৬ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড সারাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায় প্রতিবেশী আবীর আলী শিশু আয়াতকে খুন করেছেন। আবীর আলী বর্তমানে কারাগারে আছেন।
ঘটনার দিন বিকালে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আয়াত। ওই ঘটনায় আবীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আবীর স্বীকার করেন, আয়াতকে খুনের পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে আবীর জানান, আয়াতদের নিচতলায় যে বাসাটিতে তার বাবা থাকেন, সেটির চাবি তার কাছেও ছিল। ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বিকালে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে আয়াতকে হত্যা করেন। পিবিআই জানিয়েছিল, ‘মুক্তিপণের’ জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে হত্যা করেন। তারপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেজন্য একটি মোবাইলও কেনেন। আর আগে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিম তার সংগ্রহে ছিল। কিন্তু সেটা সচল না থাকায় ফোন করতে পারেননি।
পিবিআই সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি এবং আয়াতের জুতা উদ্ধার করেন। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন সুইচ গেইটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। ওই ঘটনায় আয়াতের বাবা নগরের ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আবীরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেও গোপন রাখার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী অপর এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের ছিটার ডিএনএ পরীক্ষা করে তার সঙ্গে শিশু আয়াতের ডিএনএর সঙ্গে মিল পায় পিবিআই।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে। সেখানে আবীর আলীকে আসামি করে তার বাবা-মা ও বোনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর আবীর আলীর বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলায় বিচার কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ কেটে গুম করার পরিকল্পনা ও ঘটনা জেনেও গোপন রাখায় আবীরের সঙ্গী ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, ওই কিশোর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে পৃথকভাবে তার বিচার কাজ চলছে।
চার বছরের শিশুকন্যা ধর্ষণ মামলা মাত্র ২৬দিন আগে গত ২১ মে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুক্তিতর্ক আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা উক্ত মামলার রায় ঘোষণা করবেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) যুক্তিতর্ক শুনানিকালে আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। মনির কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করতেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর মাত্র কার্যদিবসে গত ৪ জুন আদালতে একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।