বাঁশখালীতে ১০৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত, ঝুঁকিতে যান চলাচল 

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায়। সরেজমিনে দেখা, বাঁশখালীর বাহারছড়া, ছনুয়া, সরল, কাথরিয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকুপ, পৌরসভার জলদী, পুইছড়ি, বাহারছড়া, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ এলাকার অভ্যন্তরীণ  সড়কগুলোর কার্পেটিং, ইট ও মাটি ধুয়ে-মুছে গেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কগুলো চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ জনগণ। 

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁশখালী উপজেলার সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ৫৮টি, (দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৮ কিলোমিটার), ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজও কালভার্টের সংখ্যা ৬০, রাস্তার সারফেসহ মোট ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ১০৯ কিলোমিটার বলে জানান বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনির।

তবে স্থানীয় জনগণের মতে ,বাঁশখালীর এমন কোন সড়ক নেই যেটা বন্যার পানিতে কবলিত হওয়ার পর ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ যোগাযোগ ব্যবস্থা কখন পরিপূর্ণতা পাবে তা নিয়ে সন্দিহান। 

অপরদিকে বন্যার পানি কমতে না কমতে ভেজা বালি দিয়ে চাম্বল বাংলাবাজার থেকে গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত রহমানিয়া সড়কের কাজ করায় স্থানীয় জনগণ বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনকে অবহিত করলে ও সে ব্যাপারে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়াতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। 

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাঁশখালীর অধিকাংশ উন্নয়ন চলে ঠিকাদারের মর্জিতে! উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বরতদের সঠিক তদারকি না করা, সাব ঠিকাদারিতে স্থানীয়দের দেওয়া, বেকার কিছু লোককে কাজের আশেপাশে রেখে, অনিয়ম ও খারাপ করলেও কেউ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারা, সবমিলিয়ে বাঁশখালীর অধিকাংশ কাজ চলে ঠিকাদের মর্জিতে বলে দাবি করেন তারা।

বাঁশখালীর একমাত্র প্রধান (পিএবি) সড়কে বেশ কিছু স্থানে দু,পাশে গর্ত ও ভেঙ্গে পড়েছে। প্রধান সড়কের অধিকাংশ স্থানে বন্যা পরবর্তী গর্তে পরিণত হওয়াতে প্রতিদিন দুর্ঘটনাসহ চলাচলকারি গাড়ি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান চালকসহ সাধারণ যাত্রীরা।   

তবে সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ৬ কিলোমিটার সড়ক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রধান সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের কার্যক্রম জোরালো ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণ ও প্রধান সড়কের সামগ্রিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ও সওজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার করা হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত