সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নুরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. তরিবুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছিলেন এটিএসআই নুরুল ইসলাম। এ সময় ঢাকা অভিমুখী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটি রং সাইড ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দায়িত্ব পালনরত এটিএসআই নুরুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে গুরুতর আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি পুলিশ জব্দ করেছে। পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাকখারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটিএসআই নুরুল ইসলাম একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল, কর্মঠ ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এদিন বিকেলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ঢাকা অভিমুখী একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমরা তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলামের মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, পুরো ট্রাফিক বিভাগের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একজন নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে আমরা হারালাম।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় ট্রাকচালকও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীরা জানান, নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করতেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তার এমন মৃত্যুতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতি, রং সাইড ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের ঘটনা ঘটে। এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।