ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন

প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকটিতে ইলেকট্রনিকভাবে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তারা জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। গত সোমবার শিল্পোন্নত দেশের জোট জি৭-এর সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ট্রাম্প বলেন, চুক্তিটি ইলেকট্রনিক্যালি স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে। এখন শুধু কাগজে-কলমে স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। আগামী ১৯ জুন জেনেভায় সেটি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, গত সোমবারই যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। আরাগচি বলেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি পরস্পর সংযুক্ত। লেবাননে যেকোনো দখলদারিত্বকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। তবে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তাবলিতে তারা একমত হয়েছেন। তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তিটির বাস্তবায়ন লেবানন সংঘাতের অবসানের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক চুক্তিটি আগামী শুক্রবারের আগেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

চুক্তি প্রকাশের বিষয়ে ফক্স নিউজ ও সিএনএন-কে জেডি ভ্যান্স বলেন, সমঝোতা স্মারকটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি অত্যন্ত সাধারণ নথি। অনেক খুঁটিনাটি বিষয় ভবিষ্যতের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের কারিগরি আলোচনার ধাপে কাজ করতে হবে। তবে এই সমঝোতা স্মারকটি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যার অধীনে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে চুক্তির সুবিধাগুলো পাবে। দলিলের প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে, যার মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করাও অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের একটি যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি থাকবে। এনবিসি নিউজকে ভ্যান্স আরও নিশ্চিত করে বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে পারমাণবিক পরিদর্শকরা অবশ্যই ইরানে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। চুক্তির অন্যতম প্রধান অংশ হলো, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস করতে সহায়তা করবে এবং এটি খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার পর অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী দুটি কার্গো জাহাজ সফলভাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রথম ফলাফল হিসেবে ইরানের বন্দরে জাহাজ চলাচল শুর হয়েছে। ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধের কারণে জাহাজগুলো কয়েক মাস আটকা পড়ে ছিল। প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক সূত্রগুলো বলছে, জাহাজগুলো এখন কোনো বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে চলাচল করছে।