শিশুকে ৬ টুকরো করে সাগরে নিক্ষেপ, মামলার রায় আজ

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় ২০২২ সালে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার চাঞ্চল্যকর মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার। গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালত আজ বুধবার মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে।’ একই দিন সকালে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ মামলার রায়ও ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ২১ মে করা মামলার যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ঘটনার ২৭ দিনের মধ্যে এবং অভিযোপত্র দাখিলের ১৩ দিনের মাথায় আগামীকাল (বুধবার) রায় ঘোষণা করা হবে। মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

আয়াতের মামলায় জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় আয়াত। ওই ঘটনায় প্রতিবেশী আবীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরে আবীর স্বীকার করেন, আয়াতকে খুনের পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আয়াতদের নিচতলায় যে বাসাটিতে তার বাবা থাকেন, সেটির চাবি তার কাছেও ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে আয়াতকে হত্যা করেন।

পিবিআই জানায়, মুক্তিপণের জন্য আয়াতকে অপহরণ করেন আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তারপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সে জন্য একটি মোবাইলও কেনেন। আর আগে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিম তার সংগ্রহে ছিল। কিন্তু সেটা সচল না থাকায় ফোন করতে পারেননি। ঘটনার ১৬ দিন পর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সøুইচ গেটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খন্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই।

ওই ঘটনায় আয়াতের বাবা নগরের ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আবীরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পায় পিবিআই। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। সেখানে আবীর আলীকে আসামি করে তার বাবা-মা ও বোনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকান্ড ও লাশ কেটে গুমের পরিকল্পনা এবং ঘটনা জেনেও গোপন রাখায় আবীরের সঙ্গী এক কিশোরকেও অভিযুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, ওই কিশোর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে পৃথকভাবে তার বিচার কাজ চলছে।

শিশুকন্যা ধর্ষণ মামলা : গত ২১ মে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুক্তিতর্ক গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা মামলার রায় ঘোষণা করবেন। যুক্তিতর্ক শুনানিকালে আসামি মনির হোসেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। মনির কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেও নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করতেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর গত ৪ জুন আদালতে একমাত্র আসামি মনিরকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।