প্রতিশোধের মানসিকতা বদলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য প্রতিশোধের মানসিকতা বদলে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ‘বিএনপি বিট’ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুপুরে খাবার খান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকসহ গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। এরপর গত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও বার্তা প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন তিনি। সবশেষ গতকাল চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন বলেছিলাম, আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা আপনি ফেরত পাবেন বা একদম আগের মতো হয়ে যাবে? হবে না। সেই মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে এসে আমরা দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কী করতে পারি? পারি বা না পারি সেটা হচ্ছে পরের ব্যাপার, চেষ্টা তো করতে পারি। অন্তত এই মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা কেন সামনের দিকে এগোবো না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি ব্যাপারে সবাই কনসার্ন। আপনাদের পত্রিকায় প্রায় এ রকম নিউজগুলো আসে, যেমন ধরেন আমাদের ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে ড্রাগের একটা প্রবলেম দেখা দিয়েছে। হয়তো বিশ্বব্যাপী কম-বেশি আছে। এখন আপনি কতজনকে ধরবেন, কতজনকে চিকিৎসা দেবেন, কতজনকে কাউন্সেলিং করবেন? সবকিছুর একটা রিসোর্সের লিমিট আছে। ব্যাপারটাকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে, এই সমস্যা থেকে কীভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বের করে নিয়ে আসব। পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের এনার্জিটাকে বার্ন করার একটা স্কোপ দিতে হবে, সে সুযোগ তাকে তৈরি করে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ঢাকা শহরসহ দেশের যেখানেই তাকাই না কেন কয়টি খেলার মাঠ আছে। আমাদের যারা এসবের (ড্রাগ) মধ্যে ইনভলভ হয়ে যাচ্ছে অথবা সারা দিন সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে আছে; বুঝে হোক না বুঝে হোক ভালো-মন্দে পার্টিসিপেট করে ফেলছে। খেলার মাঠ সব বন্ধ। আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতেগোনা মাত্র চারটি ছিল। সেখান থেকে আজ এতগুলো সাংবাদিক ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছি। তার মানে একটা জিনিস প্রমাণিত, সংবাদপত্রের যে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি এখন নেই।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘একই সময় আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল। পরে দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, উনি যে রকম বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন, একই সঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর থেকে যে রেস্ট্রিকশন ছিল সেটাও তুলে নিলেন। পরে কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’ তরুণ প্রজন্মের সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতি আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্কুল পর্যায় থেকে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না। আপনাদের সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারব না, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। ভালো কাজের পথটা আপনাকেও দেখাতে হবে। আমি দেখব আমার মতন করে, আপনাকেও দেখাতে হবে। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতা আমি আপনাদের কাছে চাচ্ছি। আমাকে যদি হেল্প করেন, আমার জন্য কাজটা করতে ইজি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিবেশটা বাঁচাতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে, সন্তানদের যেভাবে হোক রাইট ট্র্যাকে রাখতে হবে। সেটা শিক্ষার মাধ্যমে হোক, কালচারের মাধ্যমে, স্পোর্টসের মাধ্যমে হোক। মানবিক সামাজিক ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো তাদের মধ্যে দেওয়ার মাধ্যমে হোক।’

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত