প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের প্রকৃত বরাদ্দ, কৃষকের অধিকার এবং নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি কৃষি খাতে প্রণোদনার স্বল্পতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষিবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, এবারের বাজেটকে কৃষিবান্ধব বলা হলেও, প্রকৃত অর্থে কৃষক কী চান তা ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিস সম্মেলন কক্ষে ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : কৃষি কি পেল’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপদ কৃষি ও নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক নিউজ পোর্টাল ‘ক্ষেতে-পাতে’ এই সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাজেটের আগে তৃণমূলের কৃষকদের কথা শুনতে হবে। কোনো কৃষক নেতা বা নির্দিষ্ট দল নয়, বরং মাঠপর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা কী চান বাজেটে তার সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন থাকা জরুরি।
সংলাপ সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ম-ল বলেন, প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে কৃষি ও কৃষকের জন্য প্রকৃত বরাদ্দ কত, তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। সনাতন কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের এই সন্ধিক্ষণে প্রান্তিক কৃষকের প্রণোদনা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণে শুধু বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং ফসলোত্তর অপচয় রোধ, আধুনিক কোল্ড চেইন স্থাপন এবং জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনে সুনির্দিষ্ট খাতের সংস্কার প্রয়োজন।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মাটির স্বাস্থ্যরক্ষা, জৈব কৃষির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধির জোর দাবি জানান। মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন এবং এই খাতের উদ্যোক্তাদের কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
সাংবাদিক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে এমন উন্মুক্ত ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে চূড়ান্ত বাজেট পাস করা সম্ভব হয়।’